এমপি নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর জামিনের পক্ষে আপসনামায় যা লিখেছেন মরিয়মের বাবা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের বিরুদ্ধে করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আপসনামা দিয়েছেন নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা ও মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ। ওই আপসনামায় তিনি জানিয়েছেন, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো আপত্তি নেই।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে আপসনামাটি উপস্থাপন করা হয়। আদালতে বাদীর জবানবন্দিও নেওয়া হয়। তবে আপসনামা দাখিলের পরও গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আপসনামায় যা বলা হয়েছে
আপসনামায় মরিয়মের বাবা উল্লেখ করেন, মেয়ের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি ও ঘটনার প্রেক্ষাপটে সন্দেহ থেকে তিনি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও আরেকজনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতা হয়েছে বলে আপসনামায় উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলাম বা মাকছুদা ইসলামের কোনো প্ররোচনা কিংবা তাঁদের কোনো কার্যকলাপে রাগ বা অভিমানের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি—এমনটাই বর্তমানে বাদীর বক্তব্য।
আপসনামায় আরও বলা হয়, বাদী ও আসামিরা পরস্পরের আত্মীয়। তাই উভয় পক্ষের নিকটাত্মীয়দের সহযোগিতায় আলোচনার মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখার স্বার্থে তাঁরা সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
আপসনামার তিন শর্ত
আপসনামায় মূলত তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে—
১. গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে বাদী বা তাঁর পরিবারের কারও কোনো আপত্তি থাকবে না।
২. তাঁরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর উভয় পক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।
৩. বিচারাধীন বিষয়ে উভয় পক্ষ নির্লিপ্ত থেকে বিচার কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে এই আপসনামার ভিত্তিতে জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন এবং এ ধরনের মামলায় বাদীর আপসনামার আইনগত প্রভাব আদালতকে বিবেচনা করতে হবে।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলাটির অভিযোগ ও তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্যের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ঢাবির হলের নামফলকে ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’
৮ ঘন্টা আগে
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে দুই জেলায় অনশন
৮ ঘন্টা আগে
দুই দশক পর ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
৮ ঘন্টা আগে