সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় ময়মনসিংহ ও জামালপুরে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন প্রার্থীরা।
বুধবার ময়মনসিংহে ২২ জন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলে জেলার ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এখনো ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে।
অনশনে থাকা প্রার্থীদের অভিযোগ, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্যও নেই। এরপরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তাঁদের নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে। কোনো ভুল বা অসংগতি থাকলে তা পুনরায় যাচাই করে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ফুলপুর উপজেলার প্রার্থী কাজী অনিক বলেন, প্রাথমিকের চাকরিতে যোগ দেবেন—এমন আশায় তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে নকশাকার পদে নিয়োগ পেয়েও সেখানে যোগ দেননি। কিন্তু পরে জানতে পারেন, ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে তাঁর নাম নেতিবাচক হিসেবে এসেছে। কেন তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
জামালপুরেও অনশন
এদিকে জামালপুরে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া ৫১ প্রার্থী দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন করছেন। বুধবার সকাল থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক পদে জেলার ১৩৬ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৮৪ জন এবং পরে আরও একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এখনো ৫১ জন নিয়োগপত্র পাননি।
১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে নিয়োগ প্রক্রিয়া
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং তাঁদের ১ অক্টোবরের মধ্যে কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর মধ্যে সুপারিশ পাওয়া অনেক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় না থাকায় বিভিন্ন জেলায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ঢাকার শাহবাগেও আন্দোলন করেছেন প্রার্থীরা।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে এবং ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলবে। এরপর কতজন চূড়ান্তভাবে বাদ পড়েছেন, তা জানা যাবে এবং তাঁদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অনুরূপ সংবাদ
৫০ হাজার টাকায় চুক্তি, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার
মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬, ছেলেদের ১৮ করার দাবি পঞ্চগড়ের নিকাহ রেজিস্ট্রারদের
হামে মৃত্যু ১১০০ ছাড়াল, দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জনস্বাস্থ্যবিদদের
চুরির অভিযোগে বাবাকে মারধর, ৯ বছরের মেয়ের কান্নায় থামল নির্যাতন
ঢাবির হলের নামফলকে ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’
৮ ঘন্টা আগে
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে দুই জেলায় অনশন
৮ ঘন্টা আগে
দুই দশক পর ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
৮ ঘন্টা আগে