ফেসবুকে নারীর পরিচয়ে প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে, পরে জানা গেল ‘স্ত্রী’ একজন তরুণ
ফেসবুকে নারীর পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় ও পরে মুঠোফোনে বিয়ে। এরপর ভরণপোষণসহ বিভিন্ন অজুহাতে কয়েক মাসে তিন লাখের বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত পুলিশের মাধ্যমে ওই প্রবাসী জানতে পারেন, যাঁকে তিনি স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেছেন, তিনি আসলে একজন তরুণ।
ঘটনাটি নাটোরের লালপুর উপজেলার। এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে শান্ত আলী (২০) নামের এক তরুণ ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে ইতালি প্রবাসী খোরশেদ আলীর (৪৮) সঙ্গে ফেসবুকে ‘সুমাইয়া’ নামের এক নারীর পরিচয় হয়। মেসেঞ্জারে নিয়মিত কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরে মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর খোরশেদ আলী ভিডিও কলে কথিত স্ত্রীর চেহারা দেখতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়া হতো। কখনো মুঠোফোনের সামনের ক্যামেরা নষ্ট থাকার কথা বলা হতো। এভাবে দীর্ঘদিন ওই তরুণ নিজেকে আড়ালে রাখেন বলে অভিযোগ।
খোরশেদের দাবি, বিয়ের পর বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁর কাছ থেকে তিন লাখ টাকার বেশি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাড়ির পাশের জমি কেনার কথা বলে একবার প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনার কথা বলেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রতারণার অভিযোগে বুধবার সকালে লালপুরের গন্ডবিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শান্ত আলী ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশ খোরশেদ আলীকে ভিডিও কলে শান্ত আলীকে দেখালে তিনি জানতে পারেন, এত দিন যাঁকে ‘সুমাইয়া’ মনে করে কথা বলেছেন, তিনি একজন তরুণ।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, শান্ত আলী প্রথমে একজন নারীর ছবি ব্যবহার করে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। পরে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে খোরশেদ আলীর সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু করেন। ফেসবুকে ব্যবহৃত ওই নারীর একাধিক ছবি তিনি প্রবাসীকে পাঠিয়েছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্ত আলী প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ। মুঠোফোনে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি নারীকণ্ঠে কথা বলতেন এবং খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন। এমনকি খোরশেদ আলী কথিত ‘সুমাইয়ার বাবা’ শহিদুল ইসলামের সঙ্গেও একাধিকবার শ্বশুর হিসেবে কথা বলেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ গ্রেপ্তারের সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে। সেগুলোতে খোরশেদ আলীর সঙ্গে কথোপকথন ও খুদে বার্তা আদান-প্রদানের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শান্ত আলী ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।