নিকাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলার প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও ‘সন্ত্রাসী’ অপবাদ দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) বরাবর সাত দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হিজাব ও নিকাব পরিধান একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অধিকারের বিষয়। পোশাকের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে কটাক্ষ, হেনস্তা বা হুমকি দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্পষ্ট একাডেমিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তাঁরা।
সংগঠনটির নেত্রীরা অভিযোগ করেন, ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষিকা নিকাব পরিহিত ওই শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে সামনে বসতে বাধা দেন এবং তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ওই শিক্ষিকার আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগও তোলা হয়।
মানববন্ধনে সুমাইয়া ফাহমিদা বলেন, হিজাব-নিকাব একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অধিকার। এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করা মেনে নেওয়া হবে না। সুমাইয়া নুসরাত মিম বলেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও আস্থার জায়গা হলেও পোশাকের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বা শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া কাম্য নয়।
তাহমিদা আকবর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে হিজাব-নিকাব নিয়ে বারবার কটাক্ষের অভিযোগ ওঠা উদ্বেগজনক। তিনি ঘটনার দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি আফসানা আক্তারও ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষকের আচরণ ও এর জন্য করণীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট একাডেমিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
ছাত্রীসংস্থার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে সমতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হিজাব-নিকাবকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মানববন্ধন শেষে সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সুস্পষ্ট একাডেমিক নীতিমালা প্রণয়ন।