রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় তার সৎবাবাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ভুক্তভোগী বা তাঁর আইনগত উত্তরাধিকারীকে দিতে হবে।
মামলার অভিযোগ
মামলার তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন। তাঁরা একই বাসায় বসবাস করতেন। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তিনি কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে সন্তান জন্ম দেয়। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
পুলিশ ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। একই বছরের ২৪ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে মোট আটজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আদালতের মতে, এ ধরনের অপরাধ শুধু ভুক্তভোগীর ওপর নয়, সমাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায় ঘোষণার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।
অনুরূপ সংবাদ
ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে যাচ্ছে: ট্রাম্প
৫ ঘন্টা আগে
১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ: সৎবাবার মৃত্যুদণ্ড
৫ ঘন্টা আগে