মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, বিএনপি এমপির বিরুদ্ধে ইন্ধনের অভিযোগ; গ্রেপ্তার ৪
রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি নামে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বিকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মুখোশধারী ও সশস্ত্র দুই শতাধিক ব্যক্তি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে আলমারি ও লকার ভাঙা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জরুরি ওষুধ, টিকাদান কর্মসূচির সামগ্রী ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগ রয়েছে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা-পাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়। সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের পাশাপাশি দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ও দখলের পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধন রয়েছে। তবে ফেরদৌসী আহমেদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে ভাঙচুরে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জমির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। মালিকানা নিয়ে সমস্যা থাকলেও রাতের অন্ধকারে এভাবে স্থাপনা ভেঙে ফেলা অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী মিরপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাটের নিন্দা জানিয়েছেন। একই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রজনন স্বাস্থ্য, গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, শিশুদের টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল। সরকারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রিতেও প্রতিষ্ঠানটির নাম রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।