বাংলাদেশে আমদানি করা মাল্টার ওপর শুল্ক-করভার বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলা ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড মার্সিডিজের চেয়েও বেশি। চলতি অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে মোট শুল্ক-করভার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বিপরীতে ৫০ হাজার ডলারের একটি টেসলা গাড়িতে সর্বোচ্চ শুল্ক-করভার ৮০ শতাংশ এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড মার্সিডিজে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে অন্তত ১৪৬টি এইচএস কোডভুক্ত গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-করহার মাল্টার চেয়ে কম। ফলে ফলের মতো খাদ্যপণ্যের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি কর আরোপের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি আমদানি কমে যাওয়ার কারণে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তখন আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ছিল প্রায় ৮৭ টাকা। ওই দামের ওপর শুল্ক-কর হিসেবে দিতে হয়েছে প্রায় ১০৭ টাকা। পরে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় মাল্টার দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকায় নেমে এসেছে।
দুই দশকে কয়েক দফা বেড়েছে করভার
২০০৬–০৭ অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে মোট শুল্ক-করভার ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। তখন প্রতি কেজি মাল্টায় শুল্ক-কর দিতে হতো প্রায় ১২ টাকা। ২০২১–২২ অর্থবছর পর্যন্ত করভার বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশে।
২০২২ সালের মে মাসে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের মধ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ফলের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। এতে মাল্টার মোট করভার প্রায় ১১৪ শতাংশে ওঠে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি তা আরও বেড়ে ১৩৬ শতাংশে পৌঁছায়। পরে ২০২৫ সালের মার্চে কিছুটা কমিয়ে ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে কর অনেক বেশি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মাল্টা আমদানির সাধারণ শুল্কহার মাত্র ১ দশমিক ৯ সেন্ট। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শুল্কমুক্ত সুবিধার বাইরে থাকা দেশগুলো থেকে মাল্টা আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের গড় কার্যকর শুল্কহার ছিল ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। সে হিসাবে বাংলাদেশের করভার যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ২৩ গুণ বেশি।
ভারতেও মাল্টা আমদানিতে মৌলিক শুল্কহার ৩০ শতাংশ। অন্যান্য করসহ দেশটিতে মোট করভার প্রায় ৩৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে ফল আমদানিতে এমন উচ্চ শুল্ক-কর নেই। তাঁর মতে, অতিরিক্ত করভার ব্যবসার পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরও চাপ তৈরি করছে।
আমদানি কমলেও সরকারের রাজস্ব বেড়েছে
উচ্চ শুল্ক-কর আরোপের পর কয়েক বছরে মাল্টার আমদানি কমেছে। তবে একই সময়ে এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় বেড়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মাল্টা আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। ২০২১–২২ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। অর্থাৎ চার বছরে রাজস্ব আদায় প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনও তাজা ফলের শুল্ক-কর কমানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের যুক্তি ছিল, তাজা ফল খাদ্যপণ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এর ওপর উচ্চ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ যৌক্তিক নয়।
গবেষণা সংস্থা নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ মোকাবিলায় একসময় ফল আমদানিতে কর বাড়ানো হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় মাল্টার শুল্ক-করহার যৌক্তিক করা উচিত।
অনুরূপ সংবাদ
২৯ দিনে দুই দফায় এলপিজির দাম বৃদ্ধি করে জনগণের ওপর বোঝা চাপানো অযৌক্তিক: এবি পার্টি
সাত মাসে তিনবার তেলের দাম বৃদ্ধি, সরকারের কাছে যে প্রশ্ন জামায়াতের
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির বিক্ষোভ, সরকারকে ‘প্রতিরোধের’ হুঁশিয়ারি