অপ্রতীমের মৃত্যু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির বহিঃপ্রকাশ: গোলাম পরওয়ার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মৃত্যু দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে অপ্রতীমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
পরিবারের প্রতি সমবেদনা
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম, বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি অপ্রতীমের জন্য দোয়া করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এ শোক সহ্য করার শক্তি দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, অপ্রতীম বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, কিন্তু আর জীবিত অবস্থায় ফিরে আসতে পারেনি। তাঁর ভাষ্য, ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম ছিল তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান এবং পরিবারের স্বপ্ন ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
গোলাম পরওয়ার বলেন, অপ্রতীমের মৃত্যুর পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বের করতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরাও যাতে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
সন্দেহভাজনদের ক্ষেত্রে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকৃত দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান
অপ্রতীমের মৃত্যুকে সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি শিশু নিরাপদে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে না পারলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অপ্রতীমের মৃত্যুর রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং শিশু-কিশোরসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অপ্রতীমের মৃত্যু
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে এক কিশোরকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।