পাঠ্যবই ছাপাতে দর ফাঁস ও সমঝোতার অভিযোগ, বাড়তি ব্যয় ২৫২ কোটি টাকা
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর দরপত্রে প্রাক্কলিত দর ফাঁস, দরপত্রে সমঝোতা এবং মাঝপথে প্রাক্কলিত মূল্য বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে শুধু মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপাতেই সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ২৫২ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রথম আলোর এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রথমে বই ছাপানোর জন্য কাগজের একটি প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করে। পরে সেই দর ঠিকাদারদের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর মুদ্রণশিল্পের একাংশ প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর আবেদন করে এবং এনসিটিবি তা পুনর্মূল্যায়ন করে।
৩১ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা ২২ কোটির বেশি। পুরো বই ছাপার কাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
সরকারের লক্ষ্য, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য নভেম্বরের মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বই পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দর ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার এনসিটিবি সদস্যের
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বই ছাপার জন্য কাগজের প্রাক্কলিত দর ঠিকাদারদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি এনসিটিবির সদস্য আবু নাসের স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বই ছাপার প্রক্রিয়ায় একাধিক কমিটি যুক্ত থাকায় কোনো পর্যায় থেকে তথ্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
তিনি এটিকে এনসিটিবির একটি দুর্বলতা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর আবেদন
এনসিটিবির বোর্ড সভার নথি অনুযায়ী, মুদ্রণশিল্পের ৭৫ জন মালিক প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্কলিত দর পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় এনসিটিবি।
তবে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, দরপত্র আহ্বানের পর প্রাক্কলিত দর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এ ধরনের পরিবর্তন করতে হলে আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা উচিত।
প্রতি ফর্মায় দর বেড়েছে ৪৪ শতাংশ
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানোর প্রতি ফর্মার গড় কার্যাদেশের দর ছিল ২ টাকা ৩১ পয়সা। ২০২৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩ টাকা ৩২ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ফর্মায় গড় দর বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিকের বই ছাপাতে প্রায় ২৫ লাখ রিম কাগজের প্রয়োজন হবে। হিসাব অনুযায়ী, প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর কারণে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় ২৫০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
৪৮৫ দরপত্র বিশ্লেষণে প্রতিযোগিতার ঘাটতি
প্রতিবেদনটিতে ৭০০টির বেশি দরপত্রের মধ্যে ৪৮৫টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২৩১টি দরপত্রে মাত্র একজন করে দরদাতা ছিলেন এবং তিনিই কাজ পেয়েছেন।
কিছু ক্ষেত্রে একই মালিকের একাধিক প্রতিষ্ঠান একই দরপত্রে অংশ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো দরপত্র একাধিক প্রতিষ্ঠান কিনলেও শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানই দর জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে এমন একটি উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে সপ্তম শ্রেণির একটি দরপত্র ১৪টি প্রতিষ্ঠান কিনলেও শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠান দর জমা দিয়ে কাজ পায়।
সমঝোতা করে দর দেওয়ার অভিযোগ
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে মুদ্রণশিল্পের মালিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দরপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন দর নিয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি সূত্রের দাবি, সেখানে বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের জন্য কত দর দেওয়া হবে, তা নিয়ে আগেই আলোচনা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের বক্তব্য ও এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই ছাড়া এগুলোকে চূড়ান্তভাবে অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
টিআইবির অনুসন্ধানের দাবি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ঠিকাদারদের কাছে প্রাক্কলিত দর পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
তাঁর মতে, তথ্য কীভাবে বাইরে গেল, তা অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
এনসিটিবির বক্তব্য
এনসিটিবির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, কাগজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রাক্কলিত দর বাড়ানো হয়েছে এবং এতে আইন ভঙ্গ হয়নি। অন্যদিকে সরকারি ক্রয় বিশেষজ্ঞদের একজনের বক্তব্য, দরপত্র আহ্বানের পর প্রাক্কলিত দর পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
ফলে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা এবং সরকারি ক্রয়বিধির আলোকে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ
‘ব্যারিস্টার রাজ্জাকের সেই বিবৃতি ২০১৬ সালে স্বাক্ষর হলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো’
ঘুষের অভিযোগ তুলে বিএমইটি কার্ড ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি হাসনাতের
বিদেশে আরামের বদলে ১০ বছরের কারাবাস বেছে নেব: আসিফ মাহমুদ
জামায়াত লং মার্চের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খান
২৮ মিনিট আগে
মহাকাশে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র?
৩৩ মিনিট আগে
নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত
২১ ঘন্টা আগে
জনগণেরও ক্ষমতা দেখানোর ইতিহাস আছে: গোলাম পরওয়ার
২১ ঘন্টা আগে