কওমি সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ ১৩ দফা শিক্ষা দাবি ছাত্র মজলিসের
শিক্ষা খাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস।
শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে আয়োজিত জাতীয় ছাত্র কনভেনশন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনভেনশনে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি
কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ছাত্র মজলিসের ১৩ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
তিনি শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে কুরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, সরকারি নিয়োগ ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ এবং মেধার মূল্যায়নের দাবি জানান।
এ ছাড়া আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ছাত্র মজলিসের ১৩ দফা দাবি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে কুরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
২. প্রতিটি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুশাসন পালন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
৩. সেশনজট নিরসন এবং নিয়োগসহ সব পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে মেধার মূল্যায়ন করা।
৪. ক্যাম্পাসে হল দখল, সিট বাণিজ্য, র্যাগিং, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করা।
৫. শিক্ষা ফি এবং কাগজ, কলম ও বইসহ শিক্ষা উপকরণের দাম কমানো।
৬. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৭. শিক্ষা খাতে দেশের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া।
৮. পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রীদের জন্য আলাদা শিফটে ক্লাস এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ চালু করা।
৯. বেকারত্ব কমাতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালু করা।
১০. প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা এবং কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা।
১১. প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করা।
১২. বেসরকারি শিক্ষার উন্নয়নে সরকারি অনুদান বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
১৩. পাঠ্যবইয়ে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী লেখা বাতিল করা।
কনভেনশন শেষে র্যালি
কনভেনশনে ছাত্র মজলিসের নেতারা শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী বলেন, শিক্ষার সঙ্গে জ্ঞান অর্জন, চরিত্র গঠন ও নৈতিক মূল্যবোধের বিষয়টি যুক্ত থাকা প্রয়োজন।
কনভেনশন শেষে শাহবাগ থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গিয়ে শেষ হয়।
নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত
২২ ঘন্টা আগে
জনগণেরও ক্ষমতা দেখানোর ইতিহাস আছে: গোলাম পরওয়ার
২২ ঘন্টা আগে