বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় নারীকে হত্যা, স্যুটকেসে ভরে ডোবায় ফেলেন প্রেমিক
গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবা থেকে স্যুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিকের বাসায় ডলি আক্তার (৩০) নামের ওই নারীকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করতে তা দ্বিখণ্ডিত করে স্যুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
প্রেমের সম্পর্ক থেকে হত্যাকাণ্ড
নিহত ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুরের বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং বাঘের বাজার এলাকার একটি পোশাক কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
পিবিআই জানায়, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে মিশন ইসলামের সঙ্গে ডলির পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মিশন গাজীপুর নগরের বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকায় মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ
পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের বাসায় যান। সেখানে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, একপর্যায়ে মিশন কৌশলে ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মরদেহটি এরপর চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
মায়ের সহায়তায় মরদেহ গুমের অভিযোগ
পিবিআই বলছে, পরদিন সকালে মিশনের মা বানু আক্তার মরদেহ দেখতে পান। এরপর মরদেহ গুমের পরিকল্পনায় তিনিও যুক্ত হন বলে আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংস্থাটি।
স্যুটকেসে মরদেহটি না ধরায় কোমর থেকে তা দ্বিখণ্ডিত করা হয়। পরে মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান ওরফে মিল্টনকে ডেকে অটোরিকশায় করে স্যুটকেস ও বস্তা ভবানীপুর এলাকার একটি সেতুর কাছে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সেগুলো ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।
যেভাবে পরিচয় শনাক্ত
গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি ডোবায় স্যুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে।
স্যুটকেস ও বস্তার ভেতর থেকে নারীর দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পিবিআই প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
তিনজন গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় নিহত ডলির ভাই মো. সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পিবিআই অভিযান চালিয়ে মিশন ইসলাম (২২), তাঁর মা বানু আক্তার (৪৩) এবং বন্ধু মিজানুর রহমান ওরফে মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি, ডলির পরিচয়পত্র, মুঠোফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।