এশার নামাজের পর ফজরে এসে দেখেন মসজিদটি পদ্মায় বিলীন
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এশার নামাজ শেষে মুসল্লিরা বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর রাতের মধ্যেই ভাঙনের শিকার হয় ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি।
ফজরের নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা মসজিদটির কোনো অস্তিত্ব দেখতে পাননি।
তীব্র স্রোতে বাড়ছে নদীভাঙন
উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোতে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা নদী বর্তমানে উত্তাল। নদীর তীব্র স্রোতের আঘাতে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় নদীর পাড়ের বসতভিটা, স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বালুর বস্তা ফেলেও ঠেকানো যাচ্ছে না ভাঙন
ভাঙন ঠেকাতে পদ্মার তীরে অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে গত কয়েক দিনের প্রবল স্রোতে সেই প্রতিরোধব্যবস্থার বড় অংশও ধসে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনো বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নদীর স্রোত এতটাই তীব্র যে প্রতিরোধব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
৪০০ মিটার এলাকায় কাজ চলছে
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী জানান, ভাঙনরোধে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা প্রায় ৪০০ মিটার এলাকায় কাজ করা হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, পদ্মা নদীতে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে তাঁরা সাধ্যমতো কাজ করছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্বেগ
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে রয়েছে। তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
পদ্মার ভাঙনে মসজিদটি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী অন্যান্য স্থাপনাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৩
৮ ঘন্টা আগে