বাঘা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিলপ্রতি ৫০০ টাকা চাঁদার অভিযোগ
রাজশাহীর বাঘা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে প্রতিটি দলিল থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক দলিল লেখকের অভিযোগ, বিএনপিপন্থী দুই দলিল লেখকের নেতৃত্বে গত সপ্তাহ থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক শাহীন মণ্ডল দাবি করেছেন, সব দলিল লেখক একমত হয়ে রেজল্যুশনের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, একজন দলিল লেখকের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার পর কল্যাণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ
সাধারণ দলিল লেখকদের অভিযোগ, দলিলপ্রতি ৫০০ টাকা করে দিতে তাঁদের ওপর চাপ রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে অর্থ সংগ্রহ অব্যাহত থাকলে আগের দলিল লেখক সমিতির মতো একটি সংগঠন আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
বাঘা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে প্রায় ২০০ জন লাইসেন্সধারী দলিল লেখক রয়েছেন। সপ্তাহে দুই দিন কার্যালয়ের কার্যক্রম চলে এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০টি দলিল সম্পাদন হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ
চাঁদার অর্থ কেন দলিল করতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে দলিল লেখক শাহীন মণ্ডল আগের সময়ে আরও বেশি চাঁদা নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একপর্যায়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ করা হলে সাংবাদিককে ‘ভালো না থাকার’ হুমকি দেন বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবরেজিস্ট্রারের বক্তব্য
অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আদায়ের বিষয়ে বাঘা সাবরেজিস্ট্রার এন এম নকিবুল আলম বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। কোনো দলিল লেখক অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ জানিয়েছেন, তিনি সব সময় চাঁদা আদায়ের বিপক্ষে। কল্যাণ তহবিলের নামে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তাঁর জানা নেই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে বাঘা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের পাশাপাশি দলিল লেখকদের সংগঠন ও তহবিল পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনুরূপ সংবাদ
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৩
৮ ঘন্টা আগে