সারের দাবিতে বিক্ষোভের পর মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভূরুঙ্গামারীর কৃষকেরা
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, রাতে বাড়িতে পুলিশ গিয়ে গ্রেপ্তার করতে পারে।
‘সার চাওয়া কি অপরাধ?’
শহীদ মোড় এলাকার এক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা কাউকে আঘাত করেননি; সার না পেয়ে রাস্তায় বসেছিলেন। কিন্তু এরপর মামলা হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা। তাঁর ভাষ্য, দিনের পর দিন মাঠে কাজ করার পর রাতে বাড়িতে থাকতেও এখন ভয় হচ্ছে।
সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
গত ৭ সেপ্টেম্বর ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের শহীদ মোড় এলাকায় একটি সার ডিলারের গুদামের সামনে কয়েক শ কৃষক জড়ো হন। কৃষকদের অভিযোগ ছিল, চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া হচ্ছিল না। পাশাপাশি পরিচিত ও পছন্দের ব্যক্তিদের বেশি সার দেওয়া হচ্ছিল বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
সার বিতরণে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধের অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিস্থিতির খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের একাংশ তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
পরদিন কৃষি কর্মকর্তা বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। মামলায় আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়াসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে।
‘নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না’
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলেও জানান তিনি।
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১৮ ঘন্টা আগে