ইসরায়েলি বসতির পণ্য বর্জনের ঘোষণা যুক্তরাজ্যসহ তিন দেশের, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করছে ইসরায়েল
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। এর প্রতিক্রিয়ায় পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এ ঘোষণা দেন।
যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পাল্টা পদক্ষেপ
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের পাশাপাশি গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশন থেকেও যুক্তরাজ্যকে বাদ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সাবেক ব্রিটিশ লেবার নেতা জেরেমি করবিনসহ কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিক ও অন্যান্য দেশের কিছু ব্যক্তির ইসরায়েলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কেন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নেওয়া পদক্ষেপের লক্ষ্য পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করা। তিন দেশই বলছে, বসতি সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের বিরুদ্ধে শুধু বক্তব্য দেওয়া যথেষ্ট নয়; এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে আরও দেশ
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার পাশাপাশি ডেনমার্ক, নরওয়ে, পোল্যান্ড, স্পেন ও সুইডেনসহ আরও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তাঁদের অবস্থান হলো, ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ হতে পারে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসরায়েলের কড়া প্রতিক্রিয়া
গিডিয়ন সার ব্রিটিশ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং দেশটির আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ব্রিটিশ পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করেই নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলে আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।
নতুন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরায়েলের পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে দেশটির কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মিত্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ল।
অনুরূপ সংবাদ
বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর বেতন বাড়ছে ১০ লাখ ডলার
বৈশ্বিক সব সমস্যার সমাধান হয়তো হবে না, তবে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে: খলিলুর রহমান
ইরানের হামলায় বদলে যাচ্ছে ২৫ বছরের হিসাব, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা কমাবে যুক্তরাষ্ট্র?