ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এনসিপি নেত্রী গ্রেপ্তার
নেত্রকোনায় সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
সাদিয়া আক্তার নেত্রকোনা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে।
টাকা নেওয়ার অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাদিয়া জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।
পাঁচজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার দাবি
মামলার বাদী প্রিয়া আক্তারের দাবি, তাঁসহ পাঁচজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাওয়া হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়।
প্রিয়ার ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে আরও ২ হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছিল এবং পরদিন ফ্যামিলি কার্ড হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছিল। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হলে সাদিয়াকে আটক করা হয়।
থানায় প্রতারণার মামলা
ঘটনার পর বুধবার সকালে প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় প্রতারণার মামলা করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার এনসিপির
সাদিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সরাসরি সত্য বলে মানতে রাজি নয় এনসিপির জেলা নেতৃত্ব। জেলা কমিটির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সাদিয়া চক্রান্তের শিকার হয়ে থাকতে পারেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রও হতে পারে।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাদিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা উচিত।
পুলিশ জানিয়েছে, সাদিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।