সরকারি চাকরির ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে চুয়েটে বিক্ষোভ
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চুয়েটের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
যেভাবে বদলানোর প্রস্তাব
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের অনুপাত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১-১২তম গ্রেডে ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক—দুই অংশে ৫০ নম্বর করে রাখার কথা বলা হয়েছে।
১৩-১৬তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বর এবং ১৭-২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক—দুই পরীক্ষায় ২৫ নম্বর করে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
‘ভাইভা কোটার ঠিকানা বাংলাদেশে হবে না’
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের স্লোগানের মধ্যে ছিল—‘ভাইভা কোটার ঠিকানা, বাংলাদেশে হবে না’, ‘ভাইভা কোটা সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’।
লিখিত পরীক্ষার মেধাক্রম বদলের আশঙ্কা
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আজওয়াদ আখলাক তানভীর বলেন, শিক্ষার্থীরা ভাইভা ব্যবস্থার বিরোধী নন। তবে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হলে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধাক্রম পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষায় প্রক্সি বা জালিয়াতি ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে নিয়োগের প্রধান ভিত্তি করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রস্তাব নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
নিয়োগ পরীক্ষার কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাবকে ঘিরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চুয়েটের শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন একটি পদ্ধতি থাকা উচিত, যেখানে প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।
তাঁরা প্রস্তাবিত পরিবর্তন পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অনুরূপ সংবাদ
যুক্তির আলোয় মুখর তানযীমুল উম্মাহর আলিম মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত ‘আন্তঃশ্রেণি বাংলা বিতর্ক উৎসব-২০২৬’
কেরানীগঞ্জে জবি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের পুকুরে ডুবে গৃহবধূ ও কিশোরীর মৃত্যু
তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদ্রাসায় দাখিল ৯ম শ্রেণীর ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত