ইরানের হামলায় বদলে যাচ্ছে ২৫ বছরের হিসাব, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা কমাবে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারলে আগামী বছর থেকেই অঞ্চলটির কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েনের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংঘাত চলমান থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও কম।
ইরানের হামলায় দুর্বলতা প্রকাশ
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। পাশাপাশি দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং এক ডজনের বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ উল্লেখযোগ্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
কিছু ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ না করার চিন্তা
মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে কতটা সামরিক উপস্থিতি রাখা হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করা এবং স্থায়ী ঘাঁটির পরিবর্তে অন্য ধরনের অবকাঠামো ব্যবহার করে সংবেদনশীল অভিযান পরিচালনার বিষয়ও রয়েছে।
এ ছাড়া যেসব সেনা ওই অঞ্চলে থেকে যাবেন, তাঁদের নিরাপত্তা বাড়াতে কিছু সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে সেনা কমানোর আগ্রহ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি অংশ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সেনা কমানোর পক্ষে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পর্যালোচনা শুরু হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থান দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
৯/১১-এর পর ব্যাপক হয়েছিল মার্কিন উপস্থিতি
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ এবং পরবর্তী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য অঞ্চলজুড়ে স্থায়ী ঘাঁটি ও গোয়েন্দা স্থাপনার বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে ওয়াশিংটন।
ইরাকে ২০০৩ সালের আগ্রাসনের সময় মধ্যপ্রাচ্যে আনুমানিক আড়াই লাখ মার্কিন সেনা ছিল। ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এ সংখ্যা কখনো এক লাখের নিচে নামেনি। পরে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেও ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর আবার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়।
আগেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যেতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র
গত ২৫ বছরে একাধিকবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিকভাবে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পদ এশিয়ার দিকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় কৌশলগত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সম্পৃক্ততা কমানোর আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু ইসলামিক স্টেটের উত্থান, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এবং কাসেম সোলাইমানি হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনা ওয়াশিংটনকে বারবার ওই অঞ্চলে সক্রিয় করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি পুনর্নির্মাণে খরচ বড় প্রশ্ন
ইরানের হামলায় বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে সিআইএর একটি স্থাপনা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলোর সবগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্ভাব্য ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
স্থায়ী ঘাঁটি থাকবে, তবে কাঠামো বদলাতে পারে
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে কিছু বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কতটা অর্থ দিতে আগ্রহী, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা শিগগির ফিরছেন না বলে জানিয়েছেন মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা। ফলে ইরানের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক কৌশল নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুরূপ সংবাদ
ইসরায়েলি বসতির পণ্য বর্জনের ঘোষণা যুক্তরাজ্যসহ তিন দেশের, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করছে ইসরায়েল
বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর বেতন বাড়ছে ১০ লাখ ডলার
বৈশ্বিক সব সমস্যার সমাধান হয়তো হবে না, তবে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে: খলিলুর রহমান