গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের ৪ প্রতিষ্ঠানে ৬২৭ কর্মী ছাঁটাই
গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের ৬২৭ শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে ছাঁটাইসংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে চাকরি হারানো শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ছাঁটাই হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।
ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাসসংকটে উৎপাদন বন্ধ
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত ৬ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো লে-অফের আওতায় রয়েছে। পরে কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং সমস্যা, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবলের কারণে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বর থেকে ছাঁটাই কার্যকর
শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা পরিশোধের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানাগুলোতে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
চাকরি হারিয়ে দুশ্চিন্তায় শ্রমিকেরা
মঙ্গলবার সকাল থেকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজতে থাকেন। এ সময় অনেক শ্রমিক ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।
কারখানার এক শ্রমিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। চাকরি হারানোর পর পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, সেটিই এখন তাঁর বড় দুশ্চিন্তা।
আরেক শ্রমিক জানান, প্রায় এক দশক ধরে কারখানায় কাজ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন হওয়ায় তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পাওনা পরিশোধ
কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী সব পাওনা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
অন্যদিকে বর্তমানে যেসব কর্মীর চাকরি বহাল রয়েছে, তাঁরা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফ সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন
ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য কারখানার প্রধান ফটকে শিল্প পুলিশ ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অনুরূপ সংবাদ
জনতা ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে এক হাজার কোটি টাকা দিল সরকার
নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে গেলে অর্থনীতি-সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে: আনু মুহাম্মদ
দ্বিতীয় দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছেন ৭,৮৯৬ গ্রাহক