নিউইয়র্কের ভোরে চমক শেলটন, আলকারাজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে
নিউইয়র্কের রাত পেরিয়ে যখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে, তখনই ইউএস ওপেনে বড় অঘটনের জন্ম দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটন। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও দ্বিতীয় বাছাই কার্লোস আলকারাজকে পাঁচ সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারিয়ে প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে উঠেছেন অষ্টম বাছাই শেলটন।
মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচটি শেষ হয় বুধবার ভোর ৩টা ৩৩ মিনিটে। ৪ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের এই লড়াই ইউএস ওপেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দেরিতে শেষ হওয়া ম্যাচের রেকর্ড গড়েছে।
পাঁচ সেটে নাটকীয় জয়
শুরুটা অবশ্য শেলটনের পক্ষে ছিল না। প্রথম সেটের টাইব্রেকারে ৭-৫ ব্যবধানে জিতে এগিয়ে যান আলকারাজ। তবে এরপর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান মার্কিন তারকা।
দ্বিতীয় সেট ৬-১ এবং তৃতীয় সেট ৬-৩ ব্যবধানে জিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন শেলটন। চতুর্থ সেটে অবশ্য আলকারাজ নিজের সেরা খেলায় ফিরে এসে ৬-১ ব্যবধানে জিতে ম্যাচকে নিয়ে যান নির্ণায়ক পঞ্চম সেটে।
শেষ সেটে শেলটনের স্নায়ুর পরীক্ষা
পঞ্চম সেটে দুজনেই একে অপরের সার্ভ ধরে রাখেন। শেষ পর্যন্ত সেট গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ১০-৭ ব্যবধানে জিতে ম্যাচ নিজের করে নেন শেলটন।
চূড়ান্ত স্কোর ছিল ৬-৭(৫), ৬-১, ৬-৩, ১-৬, ৭-৬(১০-৭)। এই জয়কে শেলটনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলকারাজের ১৮ ম্যাচের জয়যাত্রা থামল
এই হারে ইউএস ওপেনের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের শিরোপা ধরে রাখার পথ শেষ হলো। একই সঙ্গে গ্র্যান্ড স্ল্যামে আলকারাজের টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও থেমে গেল। ম্যাচে স্প্যানিশ তারকা ৫৩টি আনফোর্সড এরর করেন।
ম্যাচের একপর্যায়ে শারীরিক অস্বস্তিতেও ভুগতে দেখা যায় আলকারাজকে। তবে তিনি লড়াই চালিয়ে পঞ্চম সেট পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
সেমিফাইনালে শেলটনের সামনে স্বদেশি
শেলটনের সামনে এখন আরও একটি বড় লড়াই। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ আরেক মার্কিন তারকা ফ্রান্সেস তিয়াফো। ফলে ইউএস ওপেনের পুরুষ এককে ফাইনালের একটি জায়গার জন্য লড়বেন দুই স্বদেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ টেনিসে ২০০৩ সালের পর কোনো খেলোয়াড় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে পারেননি। শেলটন ও তিয়াফোর সাফল্যে এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কের দর্শকদের প্রশংসা শেলটনের
ম্যাচ শেষে শেলটন বলেন, নিউইয়র্কের দর্শকদের সমর্থন তাঁকে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে শক্তি দিয়েছে। রাত তিনটা পর্যন্ত দর্শকদের সমর্থন এবং স্বদেশি খেলোয়াড়ের প্রতি তাঁদের উচ্ছ্বাস ম্যাচটিকে তাঁর কাছে বিশেষ করে তুলেছে।
২৩ বছর বয়সী শেলটনের জন্য এটি শুধু একটি জয় নয়, বরং গ্র্যান্ড স্লাম ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের শুরু। এখন দেখার বিষয়, স্বদেশি তিয়াফোকে হারিয়ে তিনি ইউএস ওপেনের ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেন কি না।