একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই সর্দি-জ্বর, শরীর ব্যথা কিংবা চরম দুর্বলতা—এমন সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনেই শরীর সহজে ভাইরাস ও সংক্রমণের শিকার হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন ডি শুধু হাড় মজবুত রাখতেই নয়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে (ইমিউন সিস্টেম) সক্রিয় রাখতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি’র ঘাটতি থাকলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
বৃষ্টিতে ভেজা বনাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিতে ভেজার কারণে সরাসরি কেউ অসুস্থ বা জ্বর আক্রান্ত হয় না। তবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই দুর্বল থাকলে ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ভাইরাস দ্রুত শরীরে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে সামান্য বৃষ্টিতেই জ্বর, কাশি বা গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, বর্তমানে শহুরে জীবনযাপন, রোদে কম যাওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেই অজান্তে ভিটামিন ডি’র ঘাটতিতে ভুগছেন। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি’র সবচেয়ে বড় উৎস হলেও দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে বা এসির মধ্যে কাটানোর কারণে শরীরে এ ভিটামিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টিতে ভেজার কারণে সরাসরি জ্বর হয় না। তবে শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তখন আবহাওয়ার পরিবর্তন বা ভাইরাসের সংস্পর্শে এলেই অনেকের জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা গলা ব্যথা দেখা দিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, ভিটামিন ডি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী ও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে এই ভিটামিনের মাত্রা কম থাকে, তারা অন্যান্যদের তুলনায় দ্রুত এবং বেশি অসুস্থ হন।
লক্ষণ এবং চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা চিকিৎসকরা জানান, শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি থাকলে প্রধানত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়:
-
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
-
হাড় ও পেশিতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
-
ঘন ঘন সর্দি-জ্বর ও ঠাণ্ডা লাগা
তবে চিকিৎসকরা একটি বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। রক্ত পরীক্ষা ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো বা ফার্মেসি থেকে কিনে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়া একদমই ঠিক নয়। কারণ, শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি জমে যাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
ঘাটতি পূরণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
-
রোদে থাকা: প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট সকালের মিষ্টি রোদে শরীর সংস্পর্শে আনা।
-
খাদ্যাভ্যাস: নিয়মিত ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ, মাশরুম, দুধ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।
-
ডাক্তারের পরামর্শ: বেশি সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা (Vitamin D3 Test) করিয়ে সেই অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা।
সামান্য বৃষ্টিতে ভিজলেই সর্দি-জ্বর?
১০ ঘন্টা আগে
দুই দিনের সফরে ঢাকায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী
১৪ ঘন্টা আগে
রেকর্ড দামের পর এবার কমল স্বর্ণের দাম
২২ ঘন্টা আগে
হামের সংকট নিয়ে যা জানালেন তাসনিম জারা
২ দিন আগে