গণভোট নিয়ে কী বলছেন সাবেক উপদেষ্টারা? 'বিএনপির অবস্থান আগে জানলে চিত্র ভিন্ন হতো'
২০২৪ সালের এক উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার ও নির্বাচনের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই সরকার ১৯ মাস দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিয়েছে। বর্তমানে সরকারের সাবেক উপদেষ্টারা ফিরে গেছেন তাদের নিজ নিজ পেশায়, তবে তাদের দায়িত্বকাল নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
চাপে ছিল সরকার: ড. সালেহ উদ্দিন ও ফরিদা আখতারের ভাষ্য
সাবেক উপদেষ্টাদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখা হয়েছিল। সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, নির্বাচন নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত ছিল। তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়েছিল ডিসেম্বরেই নির্বাচন হোক এবং তারা আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল। আমরা কয়েকশ আন্দোলন দেখেছি, যার পেছনে নির্দিষ্ট প্রেসার গ্রুপ কাজ করছিল।”
একই সুর শোনা গেল সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের কণ্ঠেও। তিনি সচিবালয়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “বিকালে কাজ শেষে বের হতে পারতাম না নিচে আন্দোলনের কারণে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমরা কখনোই স্বস্তিতে কাজ করতে পারিনি। সেই অর্থে কাজ করার কার্যকর সময় আমাদের খুব কম ছিল।”
ভেঙে পড়া প্রশাসন গোছানোর চ্যালেঞ্জ
সাবেক উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার মনে করেন, সরকার গঠনের সময়কার প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ছিল বড় বাধা। তিনি বলেন, “সচিব থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পর্যন্ত অনেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পুরো কাঠামো পুনরায় দাঁড় করানো মোটেও সহজ ছিল না। কিছু ভুলভ্রান্তি থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।”
জুলাই সনদ ও নির্বাচন বিতর্ক
বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোট’ নিয়ে মতবিরোধ চরমে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে অভিযোগ করেছেন যে, সংস্কারের নামে নির্বাচন দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা হয়েছিল।
তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন ফরিদা আখতার। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “নির্বাচন না দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের ছিল না। এখন রাজনৈতিক দলগুলো কেন প্রতিশ্রুতি ভাঙছে, তার উত্তর তাদেরই দিতে হবে।”
মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও ভবিষ্যৎ
বিদায়ের প্রাক্কালে সম্পাদিত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ফরিদা আখতার। উচ্চ ট্যারিফ থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি বাঁচাতে এবং অর্থনীতির স্বার্থেই ইউনুস সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে তিনি জানান। তবে প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় বর্তমান রাজনৈতিক সরকার চাইলে এই চুক্তি বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৯ মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ক্রান্তিকাল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা আর রাজনৈতিক দলগুলোর দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়ার চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই ছিল ড. ইউনূস সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উপদেষ্টাদের এই স্মৃতিচারণ প্রমাণ করে, মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক প্রত্যাশার মধ্যে ব্যবধান ছিল আকাশচুম্বী।
হামের সংকট নিয়ে যা জানালেন তাসনিম জারা
৩ ঘন্টা আগে
৯ জেলায় নতুন এডিসি: ২০ মে’র মধ্যে যোগদানের নির্দেশ
১৪ ঘন্টা আগে