আইসিইউ সংকটে ময়মনসিংহ মেডিকেলে বাড়ছে হামে মৃত্যু: ২৭ শিশুর প্রাণহানি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যথাযথ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা পেডিয়াট্রিক আইসিইউ (PICU) সুবিধা না থাকায় গত মার্চ মাস থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জীবন রক্ষাকারী এই সেবা না থাকায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন রোগীর স্বজনরা।
শয্যা সংকট ও মেঝেই শেষ ভরসা
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে ওয়ার্ডের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রতিদিন ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে জ্বর, শরীরে লালচে দানা এবং পাতলা পায়খানার মতো উপসর্গ নিয়ে শত শত শিশু ভর্তি হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
বিকল্প ব্যবস্থায় জীবন বাঁচানোর চেষ্টা
হাসপাতালটিতে কোনো পেডিয়াট্রিক আইসিইউ না থাকায় সংকটাপন্ন শিশুদের ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা বিকল্প হিসেবে ‘বাবল সি-প্যাপ’ (CPAP) পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। মমেকের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমরা সি-প্যাপ দিয়ে শিশুদের সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট নয়। শিশুদের জীবন বাঁচাতে আইসিইউর কোনো বিকল্প নেই।”
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানও স্বীকার করেছেন যে, আইসিইউ সেবা চালু থাকলে এই বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো। জানা গেছে, আইসিইউর জন্য স্থাপনা তৈরি থাকলেও নানা প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় তা আটকে আছে।
টিকা কার্যক্রম ও প্রশাসনের আশ্বাস
এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে হামের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বিভাগের চার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, “টিকা দেওয়ার পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। আশা করছি শিগগিরই প্রাদুর্ভাব কমে আসবে।”
অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে নতুন শিশু হাসপাতালে
দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ২০০ শয্যার নতুন শিশু হাসপাতালটি ২০২৪ সালের জুনে চালু হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে এর অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি। সম্প্রতি নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এই আধুনিক হাসপাতালটি চালু হলে অঞ্চলের শিশুদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় দ্রুত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই আইসিইউ চালুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।