পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান এইচআরডব্লিউর
বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। একই সঙ্গে শ্রমিক অসন্তোষের নামে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্বচ্ছ তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এইচআরডব্লিউর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমেছেন। এই বিক্ষোভ দমনের সময় পুলিশের লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হামলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে চলেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনেই কেবল প্রয়োজন সাপেক্ষে আইনসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই যেন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা না হয়।
শ্রমিকদের জীবনযাত্রা ও ক্ষোভের কারণ:
চলমান আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে টিকে থাকার লড়াই। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, ২০২৩ সালে নির্ধারিত ১২ হাজার ৫০০ টাকার ন্যূনতম মজুরি দিয়ে বর্তমান চড়া বাজারের বাসাভাড়া, গ্যাস বিল ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সরকার একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেও ডিসেম্বর মাসের আগে নতুন কাঠামো কার্যকর না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ কাটছে না।
সহিংসতা ও আইনি পদক্ষেপ:
বিক্ষোভের মাঝে বিভিন্ন অনভিপ্রেত ঘটনায় হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে। গত ৩ নভেম্বর গাজীপুরে বিক্ষোভে আহত এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও বহিরাগতরা নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক ও মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধের তাগিদ:
এইচআরডব্লিউর মতে, কেবল দমনপীড়ন বা রাজনৈতিক বিরোধীদের ঘাড়ে দায় চাপালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শ্রমিকদের যৌক্তিক মজুরি দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক পোশাক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে। সরবরাহকারী কারখানার সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডগুলোকে এমন শর্ত নিশ্চিত করতে হবে, যা যেন পরোক্ষভাবে শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে। মজুরি সংকট ও সংঘাতের এই চক্র ভেঙে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ন্যায্য সমাধান বের করার ওপর জোর দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।
অনুরূপ সংবাদ
১ দিন আগে
সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
১ দিন আগে
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর
১ দিন আগে
পোশাকশিল্প ধ্বংস করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা চলছে, আন্দোলনকারীদের ৯০ শতাংশই শ্রমিক নন: এমপি দিপু
২ দিন আগে
পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি ডিসেম্বরে, বোর্ডের প্রথম সভা শেষে জানালেন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা
৩
৪
৯