রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া থেকে শুরু করে খিলগাঁও, মোহাম্মদপুর কিংবা পুরান ঢাকার অলিগলিতে রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি এবং দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের চিত্র। সুবাইল বিন আলমের লেখা এই কলামে ঢাকার অপরিকল্পিত ও দীর্ঘসূত্রতাপূর্ণ রাস্তা খননের ফলে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের চিত্র উঠে এসেছে।
লেখকের মতে, যে কাজ যথাযথ পরিকল্পনা থাকলে মাত্র দুই মাসে শেষ করা সম্ভব, তা বছরের পর বছর ধরে ফেলে রাখা হয়। শেওড়াপাড়ার গলিতে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল রমজানের আগে। রোজা, দুই ঈদ ও পুরো বর্ষা পেরিয়ে যাওয়ার পরও ৮ মাস ধরে পরিখা ও খোঁড়াখুঁড়ি অব্যাহত রয়েছে। বয়স্ক মানুষ, স্কুলশিক্ষার্থী কিংবা সাধারণ পথচারীদের বড় ড্রেনেজ পাইপ বা ঝুঁকিপূর্ণ পথ পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
মূল বিষয় ও সমস্যাসমূহ:
-
সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘসূত্রতা: বারবার রাস্তা খোঁড়ার কারণে শুধু দুর্ভোগই বাড়ে না, বরং বুয়েটের হিসাব অনুযায়ী যানজটে ঢাকায় প্রতিদিন ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, যার বার্ষিক ক্ষতি ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
-
নিয়মের প্রয়োগের অভাব: ‘ঢাকা মহানগরীর সড়ক খনন নীতিমালা ২০১৯’ এবং বিভিন্ন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিতে রাস্তা মাসের পর মাস খোঁড়া অবস্থায় ফেলে রাখা হয়।
-
দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি: ঠিকাদারদের রাজনৈতিক পরিচয় ও তদারকিতে প্রকৌশলীদের উদাসীনতার কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে। কাজের সময়সীমা ও চুক্তির শর্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অভাব রয়েছে।
লেখকের প্রস্তাবনা:
১. চলমান সব খনন সাইটের তালিকা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের নাম ওয়েবসাইট ও সাইনবোর্ডে প্রকাশ করা।
২. খোলা গর্তে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও রাতের আলোর ব্যবস্থা করা।
৩. নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে বিলম্বের জরিমানা আদায়, চুক্তি বাতিল ও কালোতালিকাভুক্ত করা।
৪. নতুন বা সদ্য মেরামত করা রাস্তা অন্তত ১২ মাস খোঁড়া নিষিদ্ধ করা এবং তিন বছরের গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করা।
৫. মাটির নিচের ইউটিলিটির ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
উন্নয়ন মানে কেবল রাস্তা খোঁড়া নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ কমানোই আসল উন্নয়ন—এমনটাই জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই কলামে।
অনুরূপ সংবাদ
৩
৫
৬
৭
দুই মাসের জন্য রাস্তা খনন, বছরজুড়ে পরিখা—আর কত?
১৭ ঘন্টা আগে
৮
১৩ কোটি টাকার সেতুতে উঠতে হয় কাঠের সিঁড়ি বেয়ে!
১৭ ঘন্টা আগে
৭