রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াসসহ চারজনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় আটক চারজনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে করা একটি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার চারজনের পরিচয়
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আ ন ম আয়াস (২৯), মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭)।
এর আগে শনিবার শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দিতে গেলে তাঁদের আটক করা হয়। রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামের একটি সংগঠনের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসও তাঁদের মধ্যে রয়েছেন।
কী ঘটেছিল সেগুনবাগিচায়
শাহবাগ থানার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শনিবার প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে আয়াসকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ওই এলাকার দেয়ালে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম।
ফুটপাতটি পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পাশাপাশি সেখানে নতুন ডাস্টবিন, বিশ্রামের বেঞ্চ এবং সংস্কার করা সীমানাপ্রাচীরের ব্যবস্থাও করা হয়।
আগেও আলোচনায় এসেছিলেন আয়াস
বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎপরতা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং নিজে হামলার শিকার হওয়ার মতো বিভিন্ন ঘটনায় এর আগেও আলোচনায় এসেছিলেন আ ন ম আয়াস।
তবে বর্তমান ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। মামলার অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।