দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে বারবার কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, হামলা-ভাঙচুর ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার, পদ স্থগিত, কারণ দর্শানোর নোটিশসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে দলটি।
দৈনিক সংগ্রামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি বিলুপ্ত এবং এক দিনে ১৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে তথ্য আসছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিএনপির তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে থাকা দলটির সক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান জোরদারের দাবি উঠেছে।
প্রতিবেদনে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি তালিকার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাজধানীতে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে থাকা ১ হাজার ৫৩০ জনের মধ্যে প্রায় ২৭৮ জন বর্তমান বা সাবেক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নয়।
বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, দলের আদর্শের কোনো প্রকৃত কর্মী চাঁদাবাজি বা দখলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না। দলীয় নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও দলের পক্ষ থেকে অবস্থান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন অভিযোগে ১ হাজার ২৩ জন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ৪৩৭ জনকে বহিষ্কার, ২৪ জনের পদ স্থগিত এবং ৩৫ জনকে সতর্ক করা হয়।
রাজধানীর বাইরেও একই ধরনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। বরিশালের গৌরনদী, গাজীপুর, খুলনা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি, হামলা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, আবার কোথাও দল বহিষ্কার বা পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
তবে অভিযোগের ধরন ও প্রমাণের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে দলের সিদ্ধান্তও ভিন্ন হয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে বহিষ্কার, কোথাও পদ স্থগিত বা কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং কোথাও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের একটি ঘটনায় চেম্বার অব কমার্স কার্যালয় দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের নামে দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও দখলদার, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের কথা জানিয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দলীয় নেতাকর্মীদের আইন মেনে চলার এবং সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধের অভিযোগের ক্ষেত্রে সামনে আরও কী ধরনের সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই এখন নজরে রয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
গণহত্যা ও গুম-খুনে জড়িত কাউকে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, বিএনপি এমপির বিরুদ্ধে ইন্ধনের অভিযোগ; গ্রেপ্তার ৪
‘বাহাত্তরের সংবিধান ডাস্টবিনে নিক্ষেপের কথা বলেছিলেন খালেদা জিয়া’