নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধ শেষ করতে চাননি, দাবি সাবেক ইসরায়েলি আলোচকের
গাজা যুদ্ধের অবসান এবং হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে আরও আগেই চুক্তি করা সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের সাবেক আলোচক ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নিৎজান অ্যালন। তাঁর দাবি, যুদ্ধকে প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘায়িত করা হয়েছে।
শুক্রবার ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির এক ওয়েবকাস্টে এসব মন্তব্য করেন নিৎজান অ্যালন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
অ্যালন বলেন, জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে ইসরায়েল আরও এক বছর বা তারও আগে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারত। তাঁর মতে, এতে যুদ্ধের অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ত না। বরং আগে চুক্তি হলে বন্দিদশায় নিহত কয়েকজন জিম্মি হয়তো জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারতেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তির আগে ‘পূর্ণ বিজয়’ অর্জনের যে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটিকেও অ্যালন সমালোচনা করেন। তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করলেও বলেন, এটি আরও আগেই কার্যকর করা সম্ভব ছিল।
ওই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও হামাস বন্দিবিনিময় করে। এতে ইসরায়েলি কারাগারে থাকা প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি এবং গাজায় আটক ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এদিকে ইসরায়েলের সাবেক কূটনীতিক অ্যালান পিঙ্কাসও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পরপরই জিম্মিদের ফেরাতে একটি চুক্তি করা সম্ভব ছিল। তাঁর মতে, জিম্মিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রায় দুই বছর সময় লাগা ‘শুধু সুযোগ হারানো নয়’, বরং একটি গুরুতর ঘটনা।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানিও সম্প্রতি দাবি করেছেন, হামলার পরপরই হামাস সীমিত সময়ের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সেটি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী ছিলেন না।
তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি ও মূল্যায়ন। নেতানিয়াহু এর আগে জিম্মি ও যুদ্ধসংক্রান্ত বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে তাঁর সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং কিছু প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা’ ও ‘মনগড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।