কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, রতনের সঙ্গে গ্রেপ্তার ‘পয়েন্ট সাব্বির’ ও ‘কিং মেকার’
কুমিল্লা নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইমরান হোসেন ওরফে রতনকে গ্রেপ্তারের পর একই অভিযানে তাঁর সহযোগী সাইফুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পৃথক অভিযানে ‘ক্রাইম সেটআপ’ নামের আরেকটি কিশোর গ্যাংয়ের দুই নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—‘ক্রাইম সেটআপ’-এর শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) এবং তাঁর সহযোগী রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে কক্সবাজার ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, কুমিল্লায় গত ১০ দিন ধরে কিশোর গ্যাংবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান চলছে। এ সময় সন্দেহভাজন দুই হাজারের বেশি কিশোর ও তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যাঁদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রতনের বিরুদ্ধে ৯ মামলা
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর বয়সী ইমরান হোসেন ওরফে রতন কুমিল্লা নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির বাসিন্দা। তাঁকে ‘আর স্কোয়াডের’ মূল চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা-সহ গুরুতর অভিযোগে মোট নয়টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ ও বিভিন্ন মামলার তথ্য অনুযায়ী, রতন গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষ, অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
২০২২ সালের শাহাদাত হোসেন হত্যা মামলাতেও রতনের নাম রয়েছে। ওই বছরের ১৯ আগস্ট কুমিল্লা নগর উদ্যানের সামনের সড়কে শাহাদাতকে হত্যা করা হয়। তখন র্যাব রতনকে মামলার প্রধান আসামি ও রতন গ্রুপের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
রতনের সহযোগী সাইফুলের বিরুদ্ধেও ১০ মামলা
রতনের সঙ্গে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাইফুল ইসলামকে (২০)। পুলিশ তাঁকে রতনের ‘ডান হাত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অপরাধে সাইফুলের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা চলমান রয়েছে।
পুলিশ বলছে, রতন আত্মগোপনে থাকার সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে গ্রুপের কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে সাইফুলকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
‘ক্রাইম সেটআপের’ দুই নেতা গ্রেপ্তার
অন্যদিকে কুমিল্লা নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ‘ক্রাইম সেটআপ’ কিশোর গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ এবং তাঁর সহযোগী রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকারকে’।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাব্বিরের বিরুদ্ধে আগের একটি মামলা রয়েছে। তাঁর সহযোগী রবিউল ইসলাম নবীর বিরুদ্ধেও একটি মামলা রয়েছে।
জেলা পুলিশ ‘রতন গ্রুপ’ ও ‘ক্রাইম সেটআপ’কে কুমিল্লার আলোচিত কিশোর গ্যাং হিসেবে উল্লেখ করেছে। পুলিশের দাবি, এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা কিশোর-তরুণদের অপরাধে জড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিল।
পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্টকারী এবং কিশোরদের অপরাধের পথে ঠেলে দেয়—এমন কোনো গ্যাং বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।