ঢাবিতে শিক্ষকদের মূল্যায়ন শুরু করল ডাকসু, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন প্রশাসনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানের মান ও পেশাদারত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ জন্য ‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মানদণ্ডে তাঁদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারছেন।
তবে ডাকসুর এই উদ্যোগের বৈধতা ও এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্যদের ভাষ্য, শিক্ষক মূল্যায়ন প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব এবং এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালাও রয়েছে।
কীভাবে হচ্ছে শিক্ষকদের মূল্যায়ন
‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি মানদণ্ড রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোর্সের কাঠামো ও পাঠ্যসূচি, শিক্ষাদানের পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন, পেশাদারত্ব এবং সার্বিক সন্তুষ্টি।
ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীরা তাঁদের একাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন। ই-মেইলে পাঠানো কোড ব্যবহার করে লগইন করার পর তাঁরা শুধু নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন।
প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন
ডাকসু জানিয়েছে, ওয়েবসাইটটি দুই দিন আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। এরই মধ্যে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষকদের মূল্যায়ন করেছেন।
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আরও সাত দিন চলবে। এ সময় শিক্ষার্থীদের মতামত, সমালোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর তিন মাসের মূল্যায়ন ও মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রশাসনের কাছে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ডাকসু।
ডাকসুর যুক্তি কী
ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি করা এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়। বরং পাঠদানের মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ফিডব্যাক ব্যবস্থা তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য।
ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘদিন আলোচনা করা হলেও এক বছরেও প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা নিজেদের উদ্যোগে ওয়েবসাইট চালু করেছে।
‘এটি ডাকসুর কাজ নয়’, বলছে প্রশাসন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেছেন, শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে, তবে ডাকসুর চালু করা ওয়েবসাইটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা নয়।
সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীও ডাকসুর উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষক মূল্যায়ন প্রশাসনের দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কার্যক্রম ইতিমধ্যে এগিয়ে চলছে।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষকদের মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।
শিক্ষকও তুলেছেন আপত্তি
ডাকসুর উদ্যোগ নিয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষক মূল্যায়নের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। ডাকসুর এমন উদ্যোগ শিক্ষকদের অনানুষ্ঠানিকভাবে রেটিং দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ মতামত নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাদানের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১৭ ঘন্টা আগে