গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফর ঘিরে ক্ষোভ, বিক্ষোভের ডাক
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফর ঘিরে দেশটিতে ক্ষোভ বাড়ছে। ট্রাম্পের সফরের সময় ডাবলিনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প শনিবার আয়ারল্যান্ডে পৌঁছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলি ও প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি কাউন্টি ক্লেয়ারে নিজের ডুনবেগ গলফ রিসোর্টে যাবেন, যেখানে আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গাজা নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ
ট্রাম্পের সফরের প্রতিবাদে ডাবলিনের গার্ডেন অব রিমেমব্র্যান্স এলাকায় বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্ন তৈরি করেছে। আয়ারল্যান্ডের ১৫০ জনের বেশি আইনজীবীও ট্রাম্পের সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে এপি জানিয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার
ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে আয়ারল্যান্ডে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডাবলিন, ফিনিক্স পার্ক, ডুনবেগ ও শ্যানন বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি যান চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
আইরিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সফরটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারও বজায় রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে গাজা প্রসঙ্গ
ট্রাম্পের সফরের আগে আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। গাজা, ইরান ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি অতীতে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন। ফলে দুই নেতার বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আয়ারল্যান্ড ইতিমধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। দেশটির সরকারও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা করেছে। ফলে ট্রাম্পের সফরটি দুই দেশের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সফর ঘিরে রাজনৈতিক চাপ
ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন তাঁর নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। বিশেষ করে গাজা ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন অবস্থানের প্রতিবাদই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ।
তবে আইরিশ সরকার ট্রাম্পের সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার সুযোগ হিসেবেও দেখছে। আয়ারল্যান্ডে বিপুলসংখ্যক মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান থাকায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফর একদিকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও গাজা ইস্যুতে তাঁর প্রশাসনের নীতির কারণে সফরটি দেশটির রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১০ ঘন্টা আগে
আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
১০ ঘন্টা আগে
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং
১৯ ঘন্টা আগে
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১০ ঘন্টা আগে