আগামী বছর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধনের ঘোষণা পানিসম্পদমন্ত্রীর
আগামী বছর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষিতে পানি সরবরাহে গুরুত্ব
প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য বর্ষা মৌসুমে পদ্মার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি পানির সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করবে বলে আশা করছে সরকার।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
পানি ব্যবস্থাপনায় বড় প্রকল্প
পদ্মা ব্যারাজকে দেশের পানি ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষার পানি ধরে রেখে প্রয়োজনের সময় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কৃষির নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে স্বাভাবিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের পানি সংকট মোকাবিলায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও জানিয়েছে সরকার।
তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অগ্রগতির পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলছে। তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, দ্রুত প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হোক।
সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার কথা জানানো হয়েছে। ফলে পদ্মা ও তিস্তা—দুটি নদীকেন্দ্রিক বৃহৎ পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পই আগামী দিনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হতে যাচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যাশা
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুরূপ সংবাদ
পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী
আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
বদরুদ্দীন উমর স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন: আলোচনা সভায় বক্তারা
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি: কূটনীতিতে কি বড় সুযোগ হাতছাড়া?
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১৭ ঘন্টা আগে