জিগাতলার সেই কিশোরী ফারজানা খান এখন সুইডিশ পার্লামেন্টের প্রার্থী
ঢাকার জিগাতলার একটি কলোনিতে বেড়ে ওঠা সেই কিশোরী আজ সুইডেনের জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। তিনি ফারজানা খান—বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিবিদ এবার সুইডিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে মডারেট পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে তাঁর দলীয় অবস্থান ২০ নম্বরে।
শৈশবের বাংলাদেশ, সুইডেনে অভিবাসী জীবনের নানা অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা মিলিয়ে ফারজানার গল্পটি একেবারেই ভিন্নধর্মী।
জিগাতলা থেকে সুইডেনে
ফারজানা যখন ১৪ বছরের কিশোরী, তখন মা ও দাদির সঙ্গে ঢাকার জিগাতলার একটি কলোনিতে থাকতেন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর বাবা, যিনি সুইডেনে বসবাস করতেন, মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিচিত পরিবেশ ও প্রিয়জনদের ছেড়ে মায়ের সঙ্গে সুইডেনে পাড়ি জমান তিনি।
নতুন দেশে গিয়ে শুরুটা সহজ ছিল না। পরিচিত মানুষ ও পরিবেশ থেকে দূরে গিয়ে একাকিত্বের সময় পার করতে হয় তাঁকে। সেই সময় বাংলাদেশে পরিচিত শিক্ষক আসাদ খানের সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেন ফারজানা। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব পরিণত হয় ভালোবাসায়।
পরে আসাদ খান ফারজানাকে বিয়ে করে সুইডেনে যান। দুজনই উমিও ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শুরু করেন।
সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই পড়াশোনা
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই প্রথম সন্তানের মা হন ফারজানা। সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই তিনি ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেন। পড়াশোনা শেষ করার পর পারিবারিক আইন বিষয়ে সামাজিক কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর স্বামী আসাদ খান কাজ করেন অর্থ খাতে।
এই সময়ের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তাভাবনাকে আরও গভীর করে তোলে।
২০০৮ সালে রাজনীতিতে যোগ
ফারজানা খান ২০০৮ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় স্থানীয় পর্যায় থেকে। পরে আঞ্চলিক রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে এবার সুইডেনের জাতীয় সংসদ—রিক্সদাগে—প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর্যায়ে পৌঁছেছেন।
মডারেট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সুইডেনের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, নিরাপত্তা বলতে শুধু সামাজিক নিরাপত্তা নয়, আর্থিক নিরাপত্তাও বোঝায়।
পার্লামেন্টে যাওয়ার লড়াই
২০২৬ সালের সুইডিশ জাতীয় নির্বাচনে মডারেট পার্টির হয়ে পার্লামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফারজানা। দলটির প্রার্থী তালিকায় তাঁর অবস্থান ২০। এবার এই দল থেকে মোট ৫০ জন প্রার্থী পার্লামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তালিকায় তাঁর আগে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন।
সুইডেনের রিক্সদাগে ৩৪৯টি আসন রয়েছে এবং সাধারণ নির্বাচন প্রতি চার বছর পর অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশিদের কাছে ভোট চাইলেন ফারজানা
স্টকহোমে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভোটারদের কাছেও সমর্থন চেয়েছেন ফারজানা খান। তিনি বলেছেন, নির্বাচিত হলে সুযোগ পেলে সুইডিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের মানুষের কথা তুলে ধরতে চান এবং বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করবেন।
নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তাঁর একটি বক্তব্য—কোথা থেকে এসেছি, তার চেয়ে কোথায় যেতে চাই সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
জিগাতলার সেই কিশোরী থেকে সুইডেনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হয়ে ওঠার পথটি তাই শুধু একজন রাজনীতিবিদের রাজনৈতিক যাত্রা নয়; এটি অভিবাসী জীবনের সংগ্রাম, শিক্ষা, পরিবার ও দীর্ঘদিনের সামাজিক-রাজনৈতিক সম্পৃক্ততারও একটি গল্প।
অনুরূপ সংবাদ
ইসরায়েলি বসতির পণ্য বর্জনের ঘোষণা যুক্তরাজ্যসহ তিন দেশের, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করছে ইসরায়েল
বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর বেতন বাড়ছে ১০ লাখ ডলার
বৈশ্বিক সব সমস্যার সমাধান হয়তো হবে না, তবে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে: খলিলুর রহমান