৫৭ হাজার কোটি টাকা আয়! চমকে দিল যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস
হলিউডের সিনেমা ব্যবসায় বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস এবার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ১ মে থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির সিনেমা হলগুলোতে টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা।
১৩ বছর পর নতুন রেকর্ড
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে আগের সর্বোচ্চ আয় হয়েছিল ২০১৩ সালে। সে বছর ‘আয়রন ম্যান ৩’, ‘ডেসপিকেবল মি ২’ ও ‘ম্যান অব স্টিল’-এর মতো সিনেমার সাফল্যে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
এবার ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার আয় করে সেই রেকর্ড ভেঙেছে হলিউড। তবে তুলনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। ২০১৩ সালের আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। পাশাপাশি চলতি বছরের গ্রীষ্মকালীন মৌসুম ছিল ১৩০ দিনের, যেখানে ২০১৩ সালে ছিল ১২৩ দিন।
চার মাসেই ১০০ কোটি ডলারের বেশি
এবারের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—প্রথমবারের মতো মে থেকে আগস্ট, টানা চার মাসেই মাসিক আয় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
-
মে: ১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার
-
জুন: ১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার
-
জুলাই: ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার
-
আগস্ট: ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার
সাধারণত মে মাসের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সোমবার পর্যন্ত সময়কে হলিউডের ‘সামার বক্স অফিস’ মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। বছরের মোট বক্স অফিস আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ এই সময়েই আসে।
করোনার পর দ্বিতীয়বার ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
করোনা মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে এবার দ্বিতীয়বারের মতো গ্রীষ্মকালীন আয় ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’-কে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে গ্রীষ্মকালীন আয় ৪ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। মহামারির আগের শেষ স্বাভাবিক বছর ২০১৯ সালে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর মতো ব্লকবাস্টারের সাফল্যে এই আয় ছিল ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
রেকর্ডে বড় অবদান ‘স্পাইডার-ম্যান’ ও ‘দ্য অডিসি’র
এবারের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও বড় বাজেটের সিনেমা। এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সনির মার্ভেল সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’।
সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯২৩ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘দ্য অডিসি’ উত্তর আমেরিকায় ৫৮৯ মিলিয়ন এবং বিশ্বব্যাপী ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।
ছোট ও মাঝারি বাজেটের ছবিরও সাফল্য
শুধু বড় বাজেটের সিনেমাই এবার দর্শক টানেনি। তরুণ দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হওয়া ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’-এর মতো সিনেমাও ভালো ব্যবসা করেছে।
অর্থাৎ এবারের বক্স অফিস সাফল্যে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির পাশাপাশি ভিন্নধারার ও তুলনামূলক ছোট সিনেমারও অবদান রয়েছে।
সব সিনেমা অবশ্য সফল হয়নি
তবে হলিউডের সব বড় বাজেটের ছবি এবারের মৌসুমে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ডিজনির লাইভ-অ্যাকশন ‘মোয়ানা’, ডিসি ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ‘সুপারগার্ল’ এবং অ্যামাজন এমজিএমের ‘মাস্টার্স অব দ্য ইউনিভার্স’ উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি।
টানা ছয় সপ্তাহ শীর্ষে ‘স্পাইডার-ম্যান’
লেবার ডে ছুটির চার দিনের সপ্তাহান্তেও বক্স অফিসের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। সিনেমাটি টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো শীর্ষে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমাটির ব্যবসা এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’-এর ৯৩৬ মিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
বাঁধনের ওপর হামলায় অভিযুক্ত মনিরুলের পরিবার গ্রাম ছাড়ল
ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা-হেনস্তায় জড়িত যাদের পরিচয় মিলেছে
কারিনা চলে যাবে এটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, ও আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন: ডানা