বেনজীরসহ বিদেশে পলাতকদের ফেরাতে শৈথিল্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এ বিষয়ে সরকারকে দোষারোপ না করে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে বিরোধী দলের আনা একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে এ অবস্থান জানানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
বেনজীরকে ফেরাতে সরকারের উদ্যোগ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, তাঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্টসংক্রান্ত অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে থাকা অবৈধ সম্পদ শনাক্ত ও জব্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।
চার দিনের মধ্যেই প্রত্যর্পণের অনুরোধ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ জুন বাংলাদেশ জানতে পারে যে বেনজীর সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেশটির আইনে ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাঠানোর সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ চার দিনের মধ্যেই, ১৬ জুন কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায়।
ইউএইর চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিপত্র ৪ আগস্ট পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হলে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য ইউএইতে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ করা হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।
ইউএইর সঙ্গে নেই প্রত্যর্পণ চুক্তি
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ আইন ও পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির ভিত্তিতে বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে বেনজীর সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন—এমন খবরের আনুষ্ঠানিক সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষ সেল গঠনের দাবি বিরোধী দলের
সংসদে আলোচনায় বিরোধী দল বেনজীরসহ বিদেশে থাকা পলাতক আসামিদের দেশে ফেরাতে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আগে আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বেনজীরকে গ্রেপ্তারের পর সরকার কী ধরনের আইনগত ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। একই সঙ্গে তাঁর দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ এবং পলাতক অন্য আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
চার বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে
সংসদে গৃহীত প্রস্তাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চারটি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যর্পণের অনুরোধসহ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের পূর্ণ বিবরণ, পাঠানো নথিতে কোনো আইনি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল কি না, সরকারি চাকরিতে থাকাকালে বেনজীরের বিদেশি পাসপোর্ট নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে থাকা অবৈধ সম্পদ জব্দের উদ্যোগ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় আইনগত বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কাউকে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়া যায় না; বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।