Monday, 20 April 2026

ব্রেকিং নিউজ:

ঢাবিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ৩৬ ছাত্রদল নেতাকে সিট, সমালোচনায় প্রশাসন

ক্যাম্পাস April 20, 2026 07:42 PM ২৫ দর্শক
ঢাবিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ৩৬ ছাত্রদল নেতাকে সিট, সমালোচনায় প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশেষ সুবিধা দিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ৩৬ জন নেতাকর্মীকে হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে নবীন শিক্ষার্থীরা এখনো আবাসন না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিদ্যমান নীতিমালা উপেক্ষা করে এই সিট বণ্টন করা হয়েছে, যা আবাসন সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের পুরোনো সেশনের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন, যাদের অনেকেরই শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার কথা। ফলে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য সিট পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নেতাকর্মীরা রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রুত আবাসন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মিছিল করেন।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ প্রশাসনকে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, দ্রুত সিট সমস্যার সমাধান না হলে নবীন শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনে যেতে বাধ্য হবে। তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিট দিতে না পারলে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা বা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ আবাসিক না হওয়ায় একসঙ্গে সবার আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আবাসন নিশ্চিত না করে ক্লাস শুরু না করলে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তবে তিনি জানান, বিষয়টি প্রভোস্ট মিটিংয়ে আলোচনা করে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের চেষ্টা করা হবে।

প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, বিশেষ বিবেচনায় যাদের সিট দেওয়া হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন এবং নীতিমালা অনুসরণ করেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আবাসন নীতিমালা কার্যকর হচ্ছে না। দ্রুত স্বচ্ছ ও ন্যায্য সিট বণ্টন নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

অনুরূপ সংবাদ