সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো এর গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অপেক্ষা।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। তবে অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের আগে কয়েকটি প্রশাসনিক ও আইনগত ধাপ সম্পন্ন করতে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কোথায় আটকে আছে প্রক্রিয়া?
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর কথা। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অনুমোদিত খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেনি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটিকে আটকে থাকা বলা ঠিক হবে না। নতুন বেতন কাঠামো কীভাবে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তুতি শেষ হলে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।
গেজেট প্রকাশের আগে যেসব ধাপ
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর শুধু বেতন বাড়ানোর হার উল্লেখ করলেই প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত হয় না। বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিও এতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হয়।
প্রশাসনের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কার্যকরের বিষয়ও খসড়ায় স্পষ্ট করতে হয়।
এরপর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে সংবিধান, প্রচলিত আইন ও চাকরিবিধির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হয়। আইনি ভাষা ও বিভিন্ন বিধানের অস্পষ্টতাও যাচাই করা হয়। ভেটিং শেষ হলে খসড়া আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে যায়। পরে তা সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানোর মাধ্যমে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আগের পে-স্কেলে কত সময় লেগেছিল?
সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ সালে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়। অর্থাৎ অনুমোদন থেকে গেজেট প্রকাশে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল।
সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, পে-স্কেলের মতো বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে প্রশাসনিক ও আইনগত বিভিন্ন বিষয় যাচাই করতে সময় লাগা স্বাভাবিক।
নতুন পে-স্কেলে বেতন কত বাড়ছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। আর ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে এবং এটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।
অপেক্ষা এখন গেজেটের
দীর্ঘ অপেক্ষার পর নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদন পেলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কবে প্রজ্ঞাপন জারি হবে—তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুতই খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিংসহ পরবর্তী ধাপ শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশ করা হবে।