আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ
দেশের আমদানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯। নতুন নীতিতে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে নির্ধারিত মূল্যসীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ঋণপত্র (এলসি) না খুলে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে (Open Account) আমদানির মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি প্রক্রিয়ায় কিছুটা নমনীয়তা তৈরি হতে পারে।
২০২৯ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে নীতি
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এসআরওর মাধ্যমে গত ২৪ আগস্ট আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ জারি করা হয়। নতুন নীতিটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো আমদানি নীতি জারি না হলে পরবর্তী নীতি জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান আদেশের বিধান কার্যকর থাকার কথা বলা হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক বছর দেশের আমদানি কার্যক্রম পরিচালনায় এই নীতিই গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
এলসি ছাড়াই আমদানির সুযোগ
নতুন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ।
আমদানি নীতি আদেশের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, আমদানিযোগ্য পণ্য নির্ধারিত মূল্যসীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে আমদানি করা যাবে।
তবে এর অর্থ সব ধরনের পণ্য কোনো শর্ত ছাড়াই আমদানি করা যাবে—এমন নয়। পণ্যের শ্রেণি, নিষেধাজ্ঞা, নিয়ন্ত্রণ, অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান আমদানিকারকদের মানতে হবে।
উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ
নতুন নীতিতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে আমদানির মূল্য পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা ক্রেতা ও বিদেশি সরবরাহকারীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে এ ধরনের লেনদেন পরিচালনার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
রপ্তানিমুখী শিল্পে স্থানীয় উপকরণ সংগ্রহে সুবিধা
রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন নীতিতে কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎস থেকে বিনা মূল্যে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগও রাখা হয়েছে। বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার আওতায় উৎপাদন উপকরণ আমদানি ও সংগ্রহের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকের দায়িত্বও থাকছে
আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর তদারকির দায়িত্ব বহাল থাকছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নতুন আমদানি নীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে আমদানি ও স্থানীয় সংগ্রহসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে।
অর্থাৎ এলসি বাধ্যতামূলক না থাকলেও আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চুক্তি ও লেনদেনের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যবসা সহজ করার উদ্যোগ
নতুন আমদানি নীতিতে একদিকে ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি প্রক্রিয়ায় বিকল্প ও নমনীয়তা বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেনের নিয়ন্ত্রণও বজায় রাখা হয়েছে।
এলসি ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে আমদানি, উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে পারে। তবে এসব সুবিধা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়া, নথিপত্র যাচাই এবং নীতির যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর।