পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই সংসদ সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রোববার রাত সাড়ে নয়টার পর শহরের ডোকরোপাড়া-মির্জা রুহুল আমিন (এমআর) কলেজ মোড় এলাকায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ ও দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সমর্থকেরা এমআর কলেজ মোড়ের একটি মিষ্টির দোকানে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা একটি মিছিল নিয়ে পঞ্চগড় বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন।
আগের ঘটনার জের
স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, একই দিন দুপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়।
ওই সভায় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম জানান, জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে সেখানে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও রাতে এর জের ধরে সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
আহত জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান অভিযোগ করেন, দিনের ঘটনার প্রতিবাদে তাঁরা রাতে একত্র হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মানিকের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়।
অন্যদিকে মনিরুজ্জামান মানিকের অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে মারধরের খবর পাওয়ার পর তাঁরা সেখানে জড়ো হন। পরে তাঁদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করা হয়।
আহতদের কয়েকজনকে রংপুরে পাঠানো
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের বেশির ভাগের মাথায় আঘাত ও রক্তক্ষরণ হয়েছে। কয়েকজনকে মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রোকনুজ্জামান জাপান, আবদুল বাতেন, শামীম ইসলাম, সাক্ষর ও ময়নুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত দুই পথচারী হলেন সাফাত কবির ও জীবন রায়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক, তদন্ত করছে পুলিশ
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম দুই পক্ষের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়েছেন।