সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও সংসদে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল তিনটায় প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
খুন, ছিনতাই, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী দুর্বল পরিস্থিতি থেকে পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে এনে বাহিনীকে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করার উপযোগী করা হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আরও উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ঢাকাজুড়ে সিসিটিভি নজরদারির পরিকল্পনা
ঢাকা মহানগরকে সিসিটিভি মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ নামের প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নিয়ে বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে তা পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করলে পুরো ঢাকা মহানগর এলাকায় সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
ছয় মাসে ৬০ হাজারের বেশি মাদকবিরোধী অভিযান
সংসদে দেওয়া তথ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলতি সরকারের সময়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ৬০ হাজার ৫৯৮টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এসব অভিযানে ১৮ হাজার ৪০টি মামলা হয়েছে এবং ১৮ হাজার ৮৫৮ জন মাদক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিডিআরের চাকরিচ্যুত সদস্যদের পুনর্বহাল নয়
বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাকরিচ্যুত সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলেও সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, ওই ঘটনায় ৬ হাজার ২৮৬ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ২ হাজার ৫১০ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোনো নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।
হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় অভিযুক্ত চাকরিচ্যুত সদস্যদেরও পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
মহাসড়কে ‘স্লিপার বাস’ নিয়েও তথ্য
বিআরটিএর তথ্য উদ্ধৃত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ৮২৯টি ডাবল ডেকার বাস চলাচলের বৈধ অনুমতি রয়েছে।
তবে কিছু বাসমালিক ডাবল ডেকার বাসের কাঠামো পরিবর্তন করে সেগুলোকে স্লিপার বাস হিসেবে মহাসড়কে চালাচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি বাসের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিবছর নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি পরিবার
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি পরিবার নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়। এতে বছরে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানান।
দেশে বেকার ২৬ লাখের বেশি
শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দেশে মোট শ্রমশক্তির পরিমাণ ৭ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ এবং বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২০ হাজার।
দেশে বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রতিবছর গড়ে ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন বলে জানান তিনি।
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১৭ ঘন্টা আগে