৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, বিরোধী দল সভাপতি পেল মাত্র একটিতে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এসব কমিটির মধ্যে মাত্র একটির সভাপতি পদ পেয়েছে বিরোধী দল। জুলাই জাতীয় সনদে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনের যে প্রস্তাব রয়েছে, তা অনুসরণ না করায় এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল।
বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিনে প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, জনপ্রশাসন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত চারটি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ৫০টি কমিটির গঠনপ্রক্রিয়া শেষ হয়। একই দিনে ছয়টি কমিটি পুনর্গঠনও করা হয়েছে।
শেষ দিনে যে চার কমিটি গঠিত
শেষ দিনে প্রতিরক্ষা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আশরাফ উদ্দিনকে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন সরকারদলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন সাঈদ আহমেদ। আর সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে।
বিরোধী দলের সভাপতি মাত্র একজন
৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে বিরোধী দল কেবল সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির পদ পেয়েছে। তবে প্রতিটি কমিটিতেই বিরোধী দলের একাধিক সদস্য রয়েছেন।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও হুইপ রফিকুল ইসলাম খান কমিটি গঠনের পর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিরোধী দল আগে যে সদস্যতালিকা দিয়েছিল, সেটিও পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি বলে তাঁরা দাবি করেন।
২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১০ সদস্যের প্রতিটি কমিটিতে প্রথমে তিনজন করে বিরোধী দলের সদস্য রাখার দাবি জানানো হয়েছিল। পরে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের মোট সদস্যের ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়।
তাঁর দাবি, সেই অনুপাতও সব কমিটিতে সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যা কম রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব হিসাব করেই সদস্য নির্বাচন করা হয়েছে। তাঁর হিসাবে, ২২টি কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। কোনো ত্রুটি থাকলে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে তা সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।
স্পিকারের উষ্মা
কমিটি গঠন শেষ হওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহির বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাহী বিভাগের সদস্যরাই যদি সংসদীয় কমিটির সভাপতি হন, তাহলে তাঁদের জবাবদিহির কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
স্পিকার বলেন, বিষয়টি সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল চেতনার আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, চিফ হুইপ ও সরকারদলীয় কয়েকজন হুইপকে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিকল্পনা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি রয়েছে।
জুলাই সনদে কী প্রস্তাব রয়েছে
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হওয়ার কথা বিরোধী দলের সদস্যদের।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সংসদে দলগুলোর আসনসংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচনের প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দলের সংসদীয় আসন প্রায় ২৬ শতাংশ হওয়ায় ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির মধ্যে প্রায় ১০টির সভাপতি পদ তাদের পাওয়ার কথা। চারটি নির্দিষ্ট কমিটি মিলিয়ে মোট ১৪টি সভাপতি পদ বিরোধী দলের পাওয়ার কথা ছিল।
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নেই
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধন নিয়ে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ওই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।
বিরোধী দলকে কমিটিতে পাঁচজন প্রতিনিধি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তারা কোনো নাম দেয়নি। বিরোধী দলের বক্তব্য, তারা জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের পক্ষে; তবে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১৭ ঘন্টা আগে