আপাতত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেই: পাকিস্তান
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিধি আপাতত বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেছেন, চুক্তিটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
চুক্তির পরিধি বাড়ানো নিয়ে এখনই আলোচনা নয়
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, মক্কা চুক্তি মূলত একটি প্রতিরক্ষা জোট হিসেবে কাজ করবে। এর প্রাথমিক লক্ষ্য হলো সদস্যদেশগুলোর প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে এখনই চুক্তির সদস্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে না।
হামলা হলে সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার বিধান
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এর কোনো একটি সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে দেশগুলো সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে।
ভবিষ্যতে অন্য দেশ যুক্ত হতে পারে
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, প্রাথমিক পর্যায়ের সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারের কাজ শেষ হলে একই ধরনের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে—এমন দেশগুলোকে ভবিষ্যতে চুক্তিতে যুক্ত করার সুযোগ থাকতে পারে।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো দেশের সঙ্গে সম্প্রসারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না বলে তিনি জানান। চুক্তির কাঠামো, কার্যপ্রণালি ও অন্যান্য বিষয় নিয়েও তিন দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
প্রথম বৈঠক ইস্তাম্বুলে
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য তিন দেশের প্রথম বৈঠক গত ৩১ আগস্ট তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে নিয়মিতভাবে তথ্য জানানো হবে।
বাংলাদেশের আগ্রহ
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সম্প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, চুক্তির সদস্যদেশগুলো বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ দেখালে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে ঢাকা।
তবে পাকিস্তানের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে চুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তিন সদস্যদেশের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
অনুরূপ সংবাদ
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১৭ ঘন্টা আগে