দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন: পুতিন-সি–মোদির বৈঠকের পাশাপাশি আলোচনায় ট্রাম্পের নীতি
নয়াদিল্লিতে শনিবার শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরানসহ ব্রিকসের ১১টি দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সৌদি আরবও সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ব্রিকসের সদস্য না হলেও এবারের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি, বিশেষ করে শুল্কনীতি, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ডলারের প্রভাব নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, সেটিও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে ব্রিকস?
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ও বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। ফলে সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো কঠোর যৌথ অবস্থান নেওয়া কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্যদের স্বার্থে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা হলেও তা তুলনামূলকভাবে অস্পষ্ট ও পরোক্ষ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ডি-ডলারাইজেশন নিয়েও আলোচনা
বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি ব্রিকসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় মুদ্রায় আন্তসীমান্ত লেনদেন আরও সহজ করার উপায় নিয়েও এবারের সম্মেলনে আলোচনা হতে পারে।
ডলারের বিকল্প ব্যবস্থা বা ডলারের প্রভাব কমানোর উদ্যোগের বিষয়ে ট্রাম্প অতীতে ব্রিকস দেশগুলোকে কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ফলে ব্রিকসের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ আর্থিক কাঠামো নিয়েও সম্মেলনে নজর থাকবে।
বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতৃত্বে ভারতের লক্ষ্য
ব্রিকসকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে ভারত। জাতিসংঘ, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবিও জোটটির আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত এই সম্মেলনের মাধ্যমে বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতৃত্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়। একই সঙ্গে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় ভারতের প্রভাব বাড়ানোর বিষয়টিও দিল্লির বৃহত্তর কূটনৈতিক লক্ষ্যগুলোর অংশ।
মোদি-পুতিন বৈঠক, নজর মোদি-সি বৈঠকেও
ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে এরই মধ্যে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে জ্বালানি, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শনিবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে মোদির বৈঠকের দিকেও বিশেষ নজর থাকবে। দুই দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করলেও তা সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্মেলনে ঐকমত্য তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ
ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এর ফলে একটি অভিন্ন যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছানো ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
তবে ব্রিকসের সদস্যরা আর্থিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের স্বার্থকে আরও জোরালো করার মতো বিষয়ে তুলনামূলকভাবে সহজে একমত হতে পারেন বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
ব্রিকসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর একটি হলো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও জোটটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, এবারের সম্মেলন ব্রিকসের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আয়োজক ভারতও এটিকে নিজেদের কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১০ ঘন্টা আগে
আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
১০ ঘন্টা আগে
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং
১৯ ঘন্টা আগে
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১০ ঘন্টা আগে