দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে কাজের গতিশীলতা বাড়াতে একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কমিটির মূল কাজ ও পরিধি
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই জাতীয় কমিটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সরাসরি কাজ করবে। কমিটির প্রধান কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে:
-
কর্মপরিকল্পনা ও মূল্যায়ন: দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন, নতুন কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ, কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করা।
-
আইন ও বিধিবিধান সংস্কার: প্রচলিত নিরাপত্তা ও সামাজিক আইন এবং বিধিবিধানগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনে তা সংশোধন ও সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করা।
-
অনলাইন ও সংস্থা তদারকি: ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মসমূহ নিয়মিতভাবে নিবিড় তদারকির (Monitoring) আওতায় আনা।
-
আন্তঃসংস্থা সমন্বয়: দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কাজের প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করা এবং কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তদারকি করা।
-
কার্যপরিধি নির্ধারণ: নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও সংস্থাসমূহের নির্দিষ্ট কার্যপরিধি এবং কাজের ক্ষেত্র ঠিক করে দেওয়া।
কমিটির নেতৃত্ব ও সদস্যবৃন্দ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এই কমিটির ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে কাজ করবেন।
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দেশের শীর্ষ আমলা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের। সদস্যরা হলেন: ১. মন্ত্রিপরিষদ সচিব
২. প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
৩. সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (PSO)
৪. বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (IGP)
৫. প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক
৬. জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদফতরের (এনএসআই) মহাপরিচালক
৭. বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) মহাপরিচালক
৮. ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেলের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক
৯. র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক
১০. স্পেশাল ব্রাঞ্চ অব পুলিশের (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক।
সহায়তাকারী কর্মকর্তা
কমিটির কার্যক্রমকে সুচারুভাবে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দিতে চারজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বিশেষভাবে রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন— সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটের (এসএসইউ) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় এই কমিটির জরুরি বা নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।
অনুরূপ সংবাদ
১৭ দিনেই এলো ২১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, ভাঙতে পারে অতীতের সব রেকর্ড
শাপলা চত্বর অপারেশনের সব ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে দিচ্ছে ইসলামিক টিভি, সাক্ষী হতে পারেন সাংবাদিকরা
মিড-ডে মিলে অনিয়ম দেখলেই ব্যবস্থা: ববি হাজ্জাজের ৫ দফা নির্দেশনা, তদন্ত কমিটি গঠন
নাসীরুদ্দীনের গালিতে আমরা অভ্যস্ত, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: সিইসি
রেকর্ড দামের পর এবার কমল স্বর্ণের দাম
১ দিন আগে