শাপলা চত্বর অপারেশনের সব ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে দিচ্ছে ইসলামিক টিভি, সাক্ষী হতে পারেন সাংবাদিকরা
২০১৩ সালের ৫ মে দিবাগত রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে যৌথ বাহিনীর চালানো ‘অপারেশন সিকিউরড ঢাকা’-এর সময়কার সমস্ত ভিডিও ফুটেজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎ শেষে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইসলামিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) শামস ইস্কান্দার।
তথ্য ও ফুটেজ চাইল প্রসিকিউশন
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শাপলা চত্বরের ঘটনার দীর্ঘ সময় পর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম ওই রাতের ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে, ঘটনার রাতে সরাসরি সম্প্রচারে থাকা এবং পরবর্তীতে বন্ধ করে দেওয়া বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইসলামিক টিভি’ কর্তৃপক্ষের কাছে সেদিনের সব ভিডিও ফুটেজ, নথিপত্র ও তথ্য চেয়েছে প্রসিকিউশন।
চিফ প্রসিকিউটরের সাথে বৈঠক শেষে ইসলামিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস ইস্কান্দার সাংবাদিকদের বলেন, “সেদিন রাতে আমাদের ক্যামেরায় অপারেশন ও হত্যাকাণ্ডের যে সমস্ত ফুটেজ ধারণ হয়েছিল, তার সবটুকুই আমরা ট্রাইব্যুনালে জমা দেব। আমরা সত্য উন্মোচনে আইনি প্রক্রিয়াকে শতভাগ সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সাক্ষী হতে পারেন গণমাধ্যমকর্মীরা
প্রসিকিউশন দল সূত্রে জানা গেছে, শুধু ভিডিও ফুটেজই নয়, ২০১৩ সালের ৫ মে দিবাগত রাতে শাপলা চত্বরে মাঠপর্যায়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন—এমন বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ইসলামিক টিভির তৎকালীন মাঠপর্যায়ের সাহসী সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানরা এই চাঞ্চল্যকর মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী (Witness) হতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
১৩ বছর আগে বন্ধ হওয়া দুই টিভি চ্যানেল
প্রসঙ্গ, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার পর ওই রাতেই তৎকালীন সরকারের বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশের দুটি জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘দিগন্ত টিভি’ এবং ‘ইসলামিক টিভি’-এর সম্প্রচার আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, তদানীন্তন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের সরাসরি লিখিত ও মৌখিক আদেশে কোনো প্রকার আইনি নোটিশ ছাড়াই চ্যানেল দুটি বন্ধ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চ্যানেল দুটির সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে এবং তৎকালীন সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের ওপর বড় ধরনের হস্তক্ষেপ হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে সমালোচনা করে আসছেন। এবার সেই রাতের সত্য ঘটনা উদঘাটনে বন্ধ থাকা ইসলামিক টিভির ফুটেজই ট্রাইব্যুনালের প্রধান হাতিয়ার হতে যাচ্ছে।
অনুরূপ সংবাদ
১৭ দিনেই এলো ২১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, ভাঙতে পারে অতীতের সব রেকর্ড
নিরাপত্তা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত নতুন কমিটি
মিড-ডে মিলে অনিয়ম দেখলেই ব্যবস্থা: ববি হাজ্জাজের ৫ দফা নির্দেশনা, তদন্ত কমিটি গঠন
নাসীরুদ্দীনের গালিতে আমরা অভ্যস্ত, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: সিইসি
রেকর্ড দামের পর এবার কমল স্বর্ণের দাম
১ দিন আগে