Wednesday, 11 February 2026

ব্রেকিং নিউজ:

ছয় বছর পর চীন সফরে মোদি, একই সময়ে থাকছেন পুতিনও

আন্তর্জাতিক August 7, 2025 01:51 PM ১৪৯ দর্শক
ছয় বছর পর চীন সফরে মোদি, একই সময়ে থাকছেন পুতিনও

দীর্ঘ ছয় বছরের ব্যবধানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফর এমন এক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ভারতের পুরোনো মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতা অনেকটাই কমেছে। মোদি যখন বেইজিংয়ে থাকবেন, ঠিক সেই সময়েই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও চীন সফর করবেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, চীনের তিয়ানজিনে আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদি চীন যাচ্ছেন।

২০২০ সালে হিমালয় সীমান্তে ভারত ও চীনের সৈন্যদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এটিই মোদির প্রথম চীন সফর। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম তিনি চীনে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর একাধিক কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর দিল্লির কাছে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতারোহণের পর থেকেই বিশ্বের তিন বৃহৎ শক্তিধর দেশ—চীন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনে তিন দেশের শীর্ষ নেতাদের সমাবেশ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি এসসিও-র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারত জোটের যৌথ ঘোষণাপত্র থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসসিও সদস্য দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক পুনরায় স্থিতিশীল ও গঠনমূলক করতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে মোদির অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেই সাক্ষাতের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা কমানোর জন্য নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছিল। এই সফর সেই উদ্যোগকে আরও গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুরূপ সংবাদ