হাসপাতালের জমিতে কাঁচাবাজারের আড়ত নির্মাণের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমিতে কাঁচামালের আড়ত নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে জমিটি দখল করে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জমিটি মূলত কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছিল। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৬৪ শতাংশ জমি প্রস্তাবিত উত্তরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নামে দেয়। তবে বর্তমানে সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের পরিবর্তে কাঁচামালের আড়ত গড়ে তোলা হচ্ছে।
হাসপাতালের জমিতে চলছে আড়ত নির্মাণ
গত ৪ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে জমিটিতে কাঁচামালের আড়ত নির্মাণের কাজ চলতে দেখা যায়। আড়তের ঘর নির্মাণের জন্য জমির সীমানাপ্রাচীরের একটি বড় অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। সেখানে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ব্যানারও টাঙানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, আড়ত নির্মাণের মাধ্যমে জমিটি স্থায়ীভাবে দখল করা হতে পারে। তাঁদের মতে, সেখানে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পেতেন।
আগে বসানো হয়েছিল ট্রাকস্ট্যান্ড
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রস্তাবিত হাসপাতালের জমিতে ট্রাকস্ট্যান্ড বসানো হয়েছিল। এ উদ্যোগের সঙ্গে তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামের সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে।
জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি একা ট্রাকস্ট্যান্ড বসাননি; সেখানে আরও একটি পক্ষ ছিল। তাঁর দাবি, প্রায় তিন মাস স্ট্যান্ড চালানোর সময় স্কুল কর্তৃপক্ষকে টাকাও দিয়েছেন। সমালোচনার মুখে পরে ট্রাকস্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়া হয়।
বর্তমানে জমিতে আড়ত নির্মাণের কাজ করছে রফিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, তিনি জমিটি মাসে ১৬ লাখ টাকা ভাড়ায় নিয়েছেন।
রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ
স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, আড়ত নির্মাণের পেছনে রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার স্বার্থ জড়িত। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মোস্তফা জামান জমিটি ভাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
কলেজের অধ্যক্ষ খুরশীদ জাহান জমি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে বলেন, স্কুলের ভালোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমিতে কেন আড়ত নির্মাণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন
মিরপুর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজিদ সরদার প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি এখনো উত্তরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নামে রয়েছে। তবে জমিটি বর্তমানে কার দখলে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, জমিটি ভাড়া দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া বেআইনিভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটির বাজারমূল্য অন্তত ১০০ কোটি টাকা।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলাকায় উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রয়োজন রয়েছে। সেখানে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতেন। তাঁদের আশঙ্কা, আড়ত নির্মাণের ফলে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
অনুরূপ সংবাদ
হাসিনার আমলে গণতান্ত্রিক পরিসর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল: রিজভী
সব নিয়ে গেছে, ব্যাংকগুলো এখন শূন্য মাঠের মতো পড়ে আছে: রিজভী
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে মোহাম্মদপুরে বিক্ষোভ