গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন
গণশুনানি ছাড়াই জ্বালানির দাম বাড়ানো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দেওয়া ক্যাপাসিটি চার্জের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই এবং ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যয় খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক অডিটের প্রস্তাবও দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
২৩ বছরেও গণশুনানির প্রবিধান তৈরি হয়নি কেন
নাজিবুর রহমান বলেন, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের ৩৪ ধারায় গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ এবং এ-সংক্রান্ত প্রবিধান তৈরির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনটি প্রণয়নের পর ২৩ বছরেও কেন সেই প্রবিধান তৈরি হয়নি, তা বৈঠকে জানতে চাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গণশুনানি হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। নাজিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি মন্ত্রণালয়।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অগ্রগতি সম্পর্কেও বৈঠকে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে।
ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যয় নিয়ে ফরেনসিক অডিটের প্রস্তাব
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে মোট ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে।
নাজিবুর রহমান বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলার রায় হয়েছিল এবং পরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ কী ছিল এবং সেগুলোর কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তা পরবর্তী বৈঠকে জানাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। উৎপাদন সক্ষমতা এবং ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যয় যাচাই করতে তাঁরা ফরেনসিক অডিটের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ডিজেলের মজুত ও এলপিজির দাম নিয়ে উদ্বেগ
হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে মাত্র ৩১ দিনের। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানির মজুত কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
এলপিজির দাম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাজারে একটি সিলিন্ডার কিনতে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা লাগছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সরকারি নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, ৫০ মেগাওয়াটের একটি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনায় আনুমানিক ১৫০ কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি প্রকল্পে এ ধরনের স্থাপনার ব্যয় ৩৫০ কোটি টাকার বেশি ধরা হয়েছে।
প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে কত টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তী বৈঠকে দিতে মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া সরকার অল্প সময়ের মধ্যে ৩২টি গ্যাসকূপ খনন করেছে—এমন তথ্য প্রচারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, এসব কূপ কোথায় অবস্থিত, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত উৎপাদনের হিসাব
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট; প্রকৃত উৎপাদন ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট।
অন্যদিকে, তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন আড়াই থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে কত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে, সে তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
অনুরূপ সংবাদ
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াসসহ চারজনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো
শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জমিয়তের
পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কমিটি, ভারতের প্রতিনিধিদের নাম চেয়েছে ঢাকা