ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, ফল শিগগির: চিফ হুইপ
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে সরকার। এই পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
১০১ চুক্তি নিয়ে সরকারের পর্যালোচনা
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তিসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চিফ হুইপ বলেন, সরকার সব মিলিয়ে ১০১টি এমওইউ পর্যালোচনা করছে। এর ফলাফল দ্রুত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ বেশি, তাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে যথাযথ মর্যাদার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যা ও সভাপতির পদ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ জানান, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২৪টিতে বিরোধী দলের সদস্য রয়েছেন।
তিনি বলেন, ২২টি কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। বাকি কমিটিগুলোতে দুইজন করে সদস্য রয়েছেন। সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি হিসেবে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে গুরুত্বপূর্ণ বললেন চিফ হুইপ
সম্প্রতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া ছয়টি বিলের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন নূরুল ইসলাম।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইনের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন। এর মাধ্যমে বৃদ্ধ মা-বাবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, সরকার সনদের পুরোটা বাস্তবায়ন করবে। তাঁর মতে, এর জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে।
সংবিধান সংশোধন ছাড়া সংস্কার বাস্তবায়নের অন্য কোনো পথ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০৫ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধের দাবি
সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা তুলে ধরে নূরুল ইসলাম দাবি করেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ২০৫ কোটি ডলারের ঋণ গত পাঁচ মাসে পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। ফলে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে আগের সরকারের বিদ্যুৎ খাতের কিছু চুক্তি ও দায়মুক্তির বিধান নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ
চিফ হুইপ জানান, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
অনুরূপ সংবাদ
পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী
আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
বদরুদ্দীন উমর স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন: আলোচনা সভায় বক্তারা
আগামী বছর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধনের ঘোষণা পানিসম্পদমন্ত্রীর
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১৭ ঘন্টা আগে