ফায়ারিং প্রশিক্ষণে সেনাসদস্যের মৃত্যু, ছেলেকে হারিয়ে বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন মা
চার মেয়ের পর জন্ম হয়েছিল আবু বকর সিদ্দিকের। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই ছিলেন সবার আদরের। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। কিন্তু ফায়ারিং প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নোয়াখালীর কবিরহাটের নিজ গ্রামে।
আবু বকর সিদ্দিক সবার কাছে পিয়াস নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মালিফাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী ও এক বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি চট্টগ্রামে বসবাস করতেন।
ফায়ারিং প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। নিহতদের একজন আবু বকর সিদ্দিক।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিবারের কাছে আবু বকরের মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। এরপর থেকেই তাঁর মা পারভিন আক্তার বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন আবু বকর
আবু বকর ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। তাঁর বাবা আবদুল ওয়াহাব একসময় মুদি দোকান চালাতেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই থাকেন।
উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে আবু বকর ধীরে ধীরে পরিবারের প্রধান ভরসায় পরিণত হন। তাঁর আয়েই পরিবারের অনেক প্রয়োজন মিটত। স্বজনদের ভাষ্য, তাঁকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল।
নিহত সেনাসদস্যের চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান জানান, প্রায় ২০ দিন আগে আবু বকর গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। ফায়ারিং প্রশিক্ষণ শেষ করে তাঁর টাঙ্গাইনে বদলি হওয়ার কথা ছিল। ছুটি নিয়ে আবার বাড়িতে আসবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর পূরণ হলো না।
বাবাও হয়ে পড়েছেন নীরব
ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে আবু বকরের বাবা আবদুল ওয়াহাব অনেকটা নিশ্চুপ হয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। কারও সঙ্গে কথা বলছেন না তিনি।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আবু বকরকে ঘিরে তাঁদের অনেক আশা ও স্বপ্ন ছিল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু পরিবারের কাছে এখনো অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।
গ্রামের বাড়িতে মরদেহ
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে আবু বকরের মরদেহ নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদীর শহীদ স্টেডিয়ামে আনা হয়।
পরে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূদম পুষ্প চাকমা জানান, আবু বকরের মৃত্যুর বিষয়টি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছিল। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাঁর পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়।